বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত তেরঙ্গা ওড়াও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আন্দোলনের পারদ যখন চরমে, ঠিক তখনই কেন্দ্র সরকারের কড়া নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন খ্যাতনামা অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পুলিশি বলপ্রয়োগের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দেশের শাসক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারত কোনো উগ্র গণবিক্ষোভের পথে হাঁটবে না, বরং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই এই পরিবর্তন আনা হবে।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গ রাজনীতির নতুন সমীকরণ; দিল্লীতে অমিত শাহের সাথে গোপন বৈঠক? আবার NDA-তে সামিল মমতা!
২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও নেপালে গণবিক্ষোভের জেরে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে অন্য কোনো দেশের তুলনা চলে না। তিনি স্পষ্ট জানান, আমরা চাই এই শাসকের পতন হোক এবং আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সেই পরিবর্তন আনব। আমরা নেপাল নই, আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন, গান্ধী আছেন, ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে এবং আমাদের ভোটাধিকার রয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে উত্তরপ্রদেশ থেকে গণতান্ত্রিক লড়াই শুরু করার বার্তা দেন তিনি।
শুক্রবার ভোটার তালিকায় সংক্ষিপ্ত সংশোধনের অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, আপনারা নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আমাদের এই জায়গায় ঠেলে দিয়েছেন এবং বলপ্রয়োগ করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অতীতে দেওয়া স্লোগানের কথা উল্লেখ করে প্রকাশ রাজ প্রশ্ন তোলেন, আমি মোদীজিকে সোজা প্রশ্ন করছি, আপনার হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচির কী হলো? আজ যখন দেশের যুবসমাজ হাতে তেরঙ্গা নিয়ে রাজপথে হাঁটতে চাইছে, তখন তাদের কেন আটক করা হচ্ছে? প্রতিবাদী যুব ও নারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলিকে সংসদে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি জোরালোভাবে তোলার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুনঃ দিল্লি যেন দুর্গ! ‘নজরবন্দি’ দীপকে, মোতায়েন ৩২০০০ পুলিশ
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও প্রশ্ন করার অধিকারকে অরাজকতা হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক চেষ্টার বিরোধিতা করে এই অভিনেতা বলেন, আমাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। আমাদের একমাত্র শক্তি ও অস্ত্র হলো আমাদের দেশপ্রেম এবং ভারতের সংবিধান। প্রতিবাদ করার অধিকারই আমাদের শক্তি। তিনি জানান, তেরঙ্গা মার্চ রুখে দেওয়া হলেও এই আন্দোলন এখানেই থামছে না। আগামী দিনে সংযুক্ত কিষান মোর্চা, কৃষক সমাজ ও একাধিক নাগরিক সমাজের সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনে যোগ দেবেন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রাজপথে অব্যাহত থাকবে বলেই হুঁশিয়ারি দেন প্রকাশ রাজ।


