বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের বুথগুলোর বেহাল দশা নিয়ে বেজায় চটেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বুথের পরিকাঠামো উন্নয়নে নবান্ন সদর্থক ভূমিকা নেয়নি— এই অভিযোগে এবার কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একজন করে সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সবার নজর থাকবে যে ১০টি আসন
কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, বুথের পরিকাঠামো তৈরির প্রাথমিক দায়িত্ব রাজ্যের। এই কাজে গতি আনতে নিযুক্ত সচিবরা সরাসরি জেলাগুলিতে গিয়ে পরিকাঠামোর হাল হকিকত খতিয়ে দেখবেন। অন্যদিকে, বুধবারই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জেলাশাসকদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালও। এবার নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও অন্যবারের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য থাকছেন একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৯১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ— এই দুই জেলায় ভোটাধিকার হারানোর তালিকায় যে বিপুল সংখ্যা উঠে এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানকে টুকরো করার হুঁশিয়ারি রাজনাথের
সংখ্যার বিচারে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ, এই দুই জেলায় সবচেয়ে বেশি যাচাই প্রক্রিয়া চলেছে। মুর্শিদাবাদে ১১,০১,১৪৫ জনের মধ্যে ৪,৫৫,১৩৭ জনকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। মালদহে ৮,২৮,১২৭ জনের মধ্যে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন ৫,৮৮,৬৫৭ জন।
অর্থাৎ মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতিটি বিধানসভা পিছু এই অ্যাডজুডিকেশনের কারণে বাদ পড়েছে গড়ে ২০ হাজারের বেশি ভোটারের নাম। আর মালদহে গড়ে প্রতিটি বিধানসভায় অ্যাডজুডিকেশনের জন্য গড়ে প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
বুথের অব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকার এই বিপুল রদবদল নিয়ে অনেকেরই মনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের কাজ এবং আইনশৃঙ্খলার খুঁটিনাটি নিয়ে বুধবারের বৈঠকে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



