বাংলায় দাঙ্গা লাগাতে চেয়েছিল মোফাক্কেরুল ইসলাম। কালিয়াচকের মানুষকে উস্কে দিয়ে একরকম হোস্টেজ করে রেখেছিল ৭ জন বিচারককে। যাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা। কার্যসিদ্ধি করে নেপালে পালাচ্ছিল মোফাক্কেরুল, কিন্তু তাতে বাঁধ সাধল রাজ্যের CID। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে বমাল সমেত গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় তাকে। অবশেষে ৫ এপ্রিল অফিসিয়ালি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয় মোফাক্কেরুলকে।

তদন্ত শুরু হতেই মোফাক্কেরুলের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে কিছু সন্দেহজনক লেনদেন দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। তবে কে বা কারা তাকে টাকা পাঠাচ্ছিল তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অবশ্য প্রকাশ্যে না এলেও গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তাকে হয়ত ব্যবহার করছিল। এর আগেও বাংলা তথা সারা দেশে এমন ঘটনার উদাহরণ পাওয়া গিয়েছে, যে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনে বেলাগাম রিক্রুটমেন্ট হয়।
আরও পড়ুনঃ বাংলার বুথে পরিকাঠামোর অভাব! বেজায় চটেছে নির্বাচন কমিশন
বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর জন্য কিংবা বড় নাশকতার জন্য সেই রাজ্যের মানুষদেরই ব্যবহার করে থাকে। আর তারাও টাকার জন্য ঘর শত্রু বিভীষণের ভূমিকা পালন করে। ঠিক সেই কারণেই মোফাক্কেরুলের সাম্প্রতিক কল রেকর্ড ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন হাইকোর্টের আইনজীবী বলে, কিন্তু জানা গিয়েছে আজ পর্যন্ত কোনো কেসে তিনি মুভ করেননি।

তদন্তকারীরা খোঁজ নিচ্ছেন তিনি আদৌ আইনজীবী ছিলেন তো নাকি কোনও রাজনৈতিক প্রভাবে বার কাউন্সিলের লাইসেন্স পেয়েছিলেন। তবে মোফাক্কেরুলের নেপাল পালানোর ঘটনা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির রাডারে বহুদিন থেকেই ভারতবিরোধী কার্যকলাপের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেপাল। বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন এবং জঙ্গি সংগঠনের নিশ্ছিদ্র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নেপাল থেকে আবার খুব সহজেই বাংলাদেশে যাওয়া যায়।
আর বাংলাদেশ মানেই জামাত সহ আরও পাকিস্তান সমর্থিত মৌলবাদী সংগঠন সেখানে রয়েছে। যারা দিনরাত পাকিস্তানি এজেন্ডা নিয়ে ভারতের মধ্যে নাশকতা করবার ষড়যন্ত্র করে চলেছে। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন সুতরাং নির্বাচনের আবহে বাংলায় নাশকতা করিয়ে দেওয়ার সুযোগ তারা ছাড়বে কেন এমনটাও মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। মোফাক্কেরুল নিজে ছিল মিম নেতা যারা দেশে একাধিকবার সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে ভরিয়ে দিয়েছে।আবার ঘটনার পরে তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমনকি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মঞ্চেও মোফাক্কেরুলকে কেন দেখা গিয়েছে তাও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা
আরও পড়ুনঃ ভোট অঙ্কে বিরাট পরিবর্তন! বঙ্গের সরকার নির্ধারিত হবে ১০০ আসনেই
তাই তদন্তকারী আধিকারিকদের সন্দেহ যে অমূলক নয় তাও মনে করছেন অনেকেই। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তদন্তকারীদের নজর এড়ায়নি তা হল ঘটনাস্থল কালিয়াচক। এই কালিয়াচক হল ঠিক চিকেন নেকে প্রবেশের পথ। আর সম্প্রতি চিকেন নেক নিয়ে বাংলাদেশের আস্ফালন কারুরই হয়ত ভোলার কথা নয়। সেখানকার জামাত এ ইসলামী সংগঠন একাধিকবার চিকেন নেককে ভারতের থেকে আলাদা করার হুমকি দিয়েছে। তাই এই আবহে মোফাক্কেরুলের জামাত যোগও নজরে রেখেছে তারা। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং এখন NIA র রিপোর্টই বলবে কাদের হয়ে বাংলার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল মোফাক্কেরুল।



