কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার থারুঘাটিতে দম্পতির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্রমেই রহস্য বেড়ে চলেছে। ঘটনায় মৃত অণিমা রায় ও তপন রায়ের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, তপন তাঁর স্ত্রীকে খুন করে সেই অস্ত্র দিয়েই নিজের গলায় আঘাত করেছিলেন। যদিও নিজের গলায় আঘাতের পর তপন সেই অস্ত্র কোথায় ফেলেছিলেন, সেই প্রশ্নই এখন দম্পতির পরিবার-পরিজনের। পুলিশের আত্মহত্যার দাবি অস্ত্র লোপাটের কাছে পরবর্তীতে ধোপে টিকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে সাহু নদীর পাড় বরাবর সোমবার সারাদিন তল্লাশির পরেও সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। প্রশ্ন আরও রয়েছে। তপন যদি নিজের গলায় আঘাত করেন তাহলে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। তাহলে পরবর্তীতে তপন দড়ি পেলেন কোথা থেকে?
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে বিচার ও রাজনীতির সংঘর্ষ; আইসিটি-১–এর রায় এবং রাষ্ট্রীয় বৈধতার গভীর সংকট
এসব উত্তর এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে না থাকায় পরিবারের লোকজন খুনের অভিযোগেই আরও জোর দিচ্ছেন। অণিমার দাদা ভবেশ মণ্ডল এদিনও বলেছেন, ‘ওরা নিজেরা কোনওদিনই এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে না। আমরা প্রথম থেকেই এই কথা বলে আসছি যে ওদের খুন করা হয়েছে।’
পুলিশ ও পরিবার দম্পতির মৃত্যু নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও ঘটনার পেছনের রহস্য কী, সে ব্যাপারে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও অন্ধকারে রয়েছে দু’পক্ষই। ভবেশ বলেন, ‘রবিবার দাহকাজ শেষ করে আমাদের বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হয়েছে। তারপর আমরা সকলে মিলে বসে এর পিছনে রহস্য বের করার চেষ্টা করেছিলাম।’
এদিকে, এদিন দম্পতির পরিবারকে আশিঘর ফাঁড়িতে ডাকা হয়। পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করেন তদন্তকারী পুলিশকর্তারা। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (ইস্ট) রাকেশ সিংয়ের বক্তব্য, ‘ঘটনার পেছনের কারণ আমাদের কাছে এখনও পরিষ্কার নয়। তবে স্ত্রীকে খুন করে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন।’ স্ত্রীকে খুন করে ব্যক্তির আত্মহত্যার তত্ত্বই উঠে আসছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগ থেকেও।
এদিকে, ওই দম্পতি বাড়ি ফেরার সময় কোনও দুষ্কৃতী চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন কি না, তা নিয়েও পরিবারের তরফে সংশয় হয়েছে। কারণ, রবিবারও দম্পতির ছেলে পাপনের দাবিমতো, তাঁর মায়ের গায়ে থাকা সোনার অলংকারগুলি পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল সম্পর্কে সিপিএমের মূল্যায়ন ভুল; অবস্থান স্পষ্ট করল লিবারেশন
সাহু নদীর ওই জায়গা ফরেস্ট প্রোটেকশন কমিটি ঘিরে রেখেছে। বিশেষ করে শীতের এই সময় কেউ যাতে সহজে সেখানে ঢুকতে না পারে, সেজন্যও এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাহলে ওই এলাকার ভেতরে এমন ঘটনা ঘটে গেল কীভাবে?
বিষয়টি নিয়েই আশঙ্কিত ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি মালাকার। তিনি বলেন, ‘ওই এলাকাটি সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকার থাকে। এলাকায় সেতুর ওপর বাতি থাকলেও সেটা জ্বলে না। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লাগানো বাতিটাও জ্বলছে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টাকে মাথায় রেখে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। বন দপ্তরের সঙ্গেও আলোচনা করতে হবে।’
ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে অণিমার সহকর্মীরা সকলেই বিস্মিত। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যা সুজিতা রায় বলেন, ‘বৃহস্পতিবারই তপন এসআইআর-এর ফর্ম ফিলআপ করে আমার কাছে এসেছিল। কোনওদিন ঝামেলা নিয়ে ওরা আমাদের কাছে আসেনি।’ অণিমার এক সহকর্মীর কথায়, শনিবারও স্বামী এসে ওকে নিয়ে গেল। কোনও ঝগড়াঝাঁটি বা আলাদা কিছু দেখিনি।’ এলাকার বাসিন্দা প্রমোদ দাসের কথায়, ‘দুই ছেলেও কাজ করা শুরু করেছিল। নতুন বাড়ি তৈরি নিয়ে ওরা খুশিও ছিল। কী থেকে এমন হয়ে গেল, সত্যি এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’









