চন্দন দাসঃ
রুদ্রাবতার মহিষাসুর বেদের যুগে রুদ্র শুধুমাত্র বৈদিক মঙ্গলময় দেবতা হিসেবে ছিলেন তা নয় রুদ্র ভয়াবহ ছিল, উচ্চ ৩৩ কোটি দেবতার মধ্য ১১ জন রুদ্র পড়ত, তার মধ্য কপাল নামক রুদ্রকে ভয় পেত, ভীতি থেকেই তার পুজো তার নৈঋত তত্ত্বের জন্ম, ইনি দৈত্য কুলাধিপতি, সকল প্রকার অমঙ্গল, প্রেত, পিশাচ এনার দাস, ইনি তাদের রাজা।
রুদ্র যাগের সময় এই কপাল নামক রুদ্রের মহিষত্বৎ নামে অর্ঘ্য দেওয়া হত, সম্ভবত এনার কুলজ হল মহিষ বংশের দৈত্য গনেরা। এনাদের বাস বিন্ধ্য পর্বত এর পূর্বে বিশনম্বর নামক অঞ্চলে , মুলত আজকের ছত্রিশ গড় ও উড়িষ্যার কিছু অংশ, এরা বৈদিক ভুমিতে আসতে পারত না, ( তবে এরা অনার্য না আর্য এই কারনে বলতে পারব না) এরা বিন্ধ্য পেড়িয়ে কাশি, মথুরা, কৈলাশ, যতবার আসতে চেয়েছে বৈদিক গনের সাথে ঝামেলা লেগেছে। মুলত এই বিন্ধ্য পর্বত অনেক মহিষ বংশীয় দানব কে হত্যা করা হয়, প্রথম মহিষমর্দিনী মূর্তি ও এখানের। আজকে বিষয় তা নয়।
এই যে মহিষ বংশীয় এরা কিন্তু শিক্ষিত, অশিক্ষিত এরকম নয়, এরা রুদ্র যাগ জানত সুতরাং বৈদিক কর্মকান্ড নিশ্চয়ই পারত, এমনকি উপনয়ন এদের মধ্য ছিল, সুতরাং এদের অনার্য হিসেবে বলা বেকার, এদের কালজয়ী সাহিত্য অস্তু মহিষম এক অনবদ্য ২০০০ বছর পুরাতন কাব্য তাতে সংস্কৃত ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার লক্ষ্য আছে।
এখানেই বলা কাল মতান্তরে কপাল নামক রুদ্র ভজনা করেই রম্ম ও তার স্ত্রী মহিষী পায় মহিষাসুর কে যিনি ওই কপাল এর সমকক্ষ, অবতার। ইনি দেবগন কে হারিয়ে, দেবদর্প চুর্ণ করছে, তাই মহিষাসুর সাধারণ কেউ নয় সাক্ষাৎ সদাশিব। কিন্তু যেহেতু পশু ভাবে আছন্ন তাই জয় এর পর সমাজে অতিরিক্ত অত্যাচার শুরু করছে, তখন দেবতাগণ কোনো বীরাঙ্গনা রমণীকে পাঠান যিনি দমন করেন আসুরিক অত্যাচার।
আরও পড়ুনঃ শহরের কোটি টাকার প্যান্ডেল ফেল; রাজপ্রাসাদ লাগে না, মা আসেন মাটির ঘরেও…
আদ্যশক্তি দুর্গা একে একবার নয় অনেক কল্পে বধ করে, (১) রম্ভ কল্পে উগ্রচন্ডা রুপে (২) স্বয়ম্ভু কল্পে মহালক্ষ্মী রুপে (৩) নীললোহিত কল্পে ভদ্রকালী (৪) চন্ড কল্পে কালিকা (৫) উত্তর কল্পে মৃগবাহিনী (৬) বামন কল্পে বিষ্ণু দুর্গা
(৭) আদিত্য কল্পে মহা সূর্য বা উষা (৮) লক্ষ্মী কল্পে অষ্টভুজ মুলা লক্ষ্মী (৯) শ্বেত বরাহ অর্থাৎ বর্তমানে দশভুজা শারদা। (১০) রক্ত কল্পে রক্তাম্বিকা ।
মহিষাসুর একই সাথে শিবাংশ আবার একই সাথে পশুপ্রবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত, তাই জগৎ জননী সম্পূর্ণ বধ করেন না, বামচরনে ঠাই দিয়ে বিদ্ধ করে তামসিক গনকে চেপে ধরেন।
মহিষাসুরের প্রণাম মন্ত্রঃ
নমঃ মহিষস্তং মহাবীর শিবরূপঃ সদাশিব।
অতত্ত্বং পূজয়িষ্যামি ক্ষমস্ব মহিষাসুর।।
নমঃ মহিষাসুর মহাবীর সর্বারিষ্ট বিনাশনঃ।
দেবী গৃহেস্তিতো ভক্তা পূজাং গৃহ্ন প্রসীদ মে।।
নমঃ দেবীপদাশ্রিত নিত্য অসুরকুল তিলকঃ।
দেব্যাস্ত্র তাড়িত ভূত্বা গতস্বর্গ নমস্তুতে।।
নমঃ পিতুর্বর প্রার্থনয়া মহিষী গর্ভসম্ভূত।
দেবদর্প বিনাশক নমস্তে মহিষাসুর।।
নমঃ মহিষাসুরায বীরায় দেবশত্রো মহাবল।
অসুরানাং প্রধানায় কালাঙ্গায় নমহস্তুতে।।
নমঃ মহাবীর মহাতেজ দেবীলীলা সুপার্ষদ।
মহাপূজন সিদ্ধয়ে কূপয়া সন্নিধীয়তাম্।।
নমঃ রুদ্রোহস্যসুররাজ ত্বং দেবানাং দর্পনাশকঃ। পিতুর্বরপ্রার্থনয়া মহিষীগর্ভসম্ভব।।
।। নমঃ মহিষাসুরায় নমঃ ।।
হ্যাঁ। এটাই সনাতন ধর্মের দর্শন। পাপীকে নয়, পাপকে ঘৃণা করো। মায়ের পাদস্পর্শে অসুরের শরীরে দেবত্ব জাগে, শবের বুকে শিব জাগে। তাই অসুরও এখানে প্রণম্য।


