আফগান তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। এটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার এবং পাকতিকা প্রদেশে চালানো বিমান হামলার প্রতিক্রিয়া। হামলায় ডজনখানেক আফগান নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছে বলে আফগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে নতুন করে চরমে তুলে দিয়েছে।
রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে নাঙ্গারহারের বিহসুদ জেলার গির্দি কাস গ্রামসহ পাকতিকা প্রদেশের কয়েকটি এলাকায়। পাকিস্তানের দাবি, এই হামলা ছিল ‘ইন্টেলিজেন্স-ভিত্তিক এবং নির্বাচিত’ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং আইএস-খোরাসানের মতো গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা লক্ষ্য করে। এটি সাম্প্রতিক ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ, যেখানে ৩১ জন নিহত হয়েছিল।
পাকিস্তান বলছে, এসব হামলা আফগানিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত হয়েছে এবং তালিবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে।কিন্তু আফগান তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি ভিন্ন। তারা বলছে, হামলা নিরীহ নাগরিক এলাকায় হয়েছে বাড়িঘর, একটি ধর্মীয় স্কুল বা মাদ্রাসা লক্ষ্য করে। নাঙ্গারহারের বিহসুদে একটি পরিবারের বাড়িতে হামলায় ১৮ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরা রয়েছে।
মোট ডজনখানেক নিহত এবং আহতের খবর পাওয়া গেছে, কিছু এলাকায় লোকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে বলে আশঙ্কা। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন, এটি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে। বিদেশ মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা একটি আনুষ্ঠানিক নোট প্রদান করে বলেছে, আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং নাগরিক এলাকায় বোমা ফেলা ‘উসকানিমূলক কাজ’।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব। এই ধরনের আগ্রাসনের ফল পাকিস্তানকেই ভোগ করতে হবে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যথাসময়ে ‘উপযুক্ত এবং পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া’ দেওয়া হবে।এই ঘটনা আফগান-পাক সম্পর্ককে নতুন করে সংকটে ফেলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ডুরান্ড লাইন নিয়ে বিরোধ, টিটিপির আশ্রয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। পাকিস্তান বারবার বলছে, আফগানিস্তান থেকে টিটিপি হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালিবান অভিযোগ করে যে, পাকিস্তান নিরীহ আফগানদের লক্ষ্য করে হামলা করছে। গত অক্টোবরে ‘অপারেশন খাইবার স্টর্ম’-এর পর এটি আরেকটি বড় হামলা। এতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক মৃত্যু বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।









