Wednesday, 14 October, 2026
14 October
HomeকলকাতাKolkata: ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশ! কারণ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা

Kolkata: ‘শান্তিনিকেতন’-এ কলকাতা পুলিশ! কারণ নিয়ে চরম ধোঁয়াশা

ইতিমধ্যেই বাড়ির ভিতরে ঢুকেছেন কলকাতা পুলিশের একাধিক আধিকারিক। তবে, কারণ এখনও জানানো হয়নি পুলিশের তরফে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ পুলিশ৷ ভরদুপুরে হেভিওয়েট এই নেতার বাড়িতে কেন হঠাৎ পুলিশের গাড়ি এসে থামল, তা নিয়ে এই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য। তবে কি কোনও বিশেষ তদন্ত, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। 

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ১৯৯৬ সালের ‘অপারেশন সানশাইনের’ স্মৃতি, উচ্ছেদ হয়েছিল আটানব্বইয়েও; হচ্ছে আজও

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছে না তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিরাপত্তা ছাঁটাই থেকে শুরু করে পুরসভার নোটিস, একের পর এক ধাক্কার মাঝেই এবার সরাসরি তাঁর কালীঘাটের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ হানা দিল পুলিশ। সোমবার দুপুরে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা এবং কলকাতা পুলিশের উর্দিধারী আধিকারিকদের একটি দল আচমকাই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অভিষেকের বাড়িতে প্রবেশ করে। শুধু ঢোকাই নয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির ভিতর থেকে একটি কম্পিউটার মনিটর বাজেয়াপ্ত করে ‘কলকাতা পুলিশ’ লেখা একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায় আধিকারিকরা। এই মেগা অভিযানের কারণ নিয়ে লালবাজারের এক শীর্ষ কর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি রহস্য আরও বাড়িয়ে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

পুলিশের গাড়িটি বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেকের গ্যারেজ থেকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি বের হতে দেখা যায়। জানা গিয়েছে, গাড়িটি এবং এই ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটি দুই-ই বিতর্কিত ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে পুরসভার খাতায় নথিভুক্ত রয়েছে। এদিকে, বাড়িটির কর মূল্যায়ন নিয়েও বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে কলকাতা পুরসভা। নথি অনুযায়ী, বাড়িটি একটি কর্পোরেট সংস্থার নামে নথিভুক্ত থাকলেও সেখানে সপরিবারে থাকছেন অভিষেক। এই অসঙ্গতির জেরে ইতিমধ্যেই পুরসভার অ্যাসিসর-কালেক্টর দফতর থেকে চুক্তিপত্র ও লেনদেনের নথি চেয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

পাশাপাশি, ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কলকাতা পুর আইনের ৪০০(১) ধারায় বেআইনি নির্মাণের জোড়া নোটিসও গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে শনিবারই পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় চেয়েছে ওই সংস্থা। গত শুক্রবার এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, নির্দিষ্ট করে বলা হোক, তারপর উত্তর দেব।”

আরও পড়ুনঃ  পারদ নামবে ৩ ডিগ্রি, কলকাতায় ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী

ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন পর থেকেই নতুন রাজ্য সরকারের কোপে পড়েছেন অভিষেক। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগ করা তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়, অতিরিক্ত বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন এবং ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে গার্ডরেল ও পুলিশি ক্যাম্প। এমনকি বিমানবন্দরের ধাঁচে অভিষেকের বাড়ির ভেতরে বসানো অত্যাধুনিক সিকিউরিটি স্ক্যানারটিও টেনে হিঁচড়ে বার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে একজন সাধারণ সাংসদ ঠিক যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য, এখন ততটুকুই বরাদ্দ রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের জন্য।

নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং পুরসভার বেআইনি নির্মাণের নোটিসের পর সোমবার দুপুরে যেভাবে পুলিশ খোদ অভিষেকের অন্দরমহলে ঢুকে কম্পিউটার মনিটর তুলে নিয়ে গেল, তাতে স্পষ্ট, জমানা বদলের বাংলায় তৃণমূলের যুবরাজের ওপর আইনি ও প্রশাসনিক চাপ এবার বহুগুণ বাড়িয়ে দিল নতুন সরকার!

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন