অসমের লখিমপুর জেলায় ঘটে গেছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গত ২৭ ডিসেম্বর বঙ্গলমরা এলাকায় পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্র্রেফতার করতে গেলে স্থানীয় একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়।গ্র্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম বাহারুল ইসলাম, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার সমর্থনে পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ। এই হামলায় পুলিশের একাধিক কর্মী আহত হন এবং অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ সত্যিই বরফ পড়বে কলকাতায়! দমদমে পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে; ঠান্ডার লড়াইয়ে কালিম্পংকেও হারাল কল্যাণী
পরবর্তীতে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শুরু করে।ঘটনার সূত্রপাত হয় এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার পর। ওই হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে নিন্দা জানালেও কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে হামলার সমর্থনে পোস্ট করা হয়। লখিমপুর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, বাহারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে এমন পোস্ট করেছেন।
তিনি আগেও নকল সোনার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বঙ্গলমরা এলাকার সোনাপুরে তাকে খুঁজে পায় এবং গ্রেফতার করে।কিন্তু গ্রেফতারের পর পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় হঠাৎ একদল লোক এসে হামলা চালায়। লাঠি, পাথর এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা পুলিশকে আক্রমণ করে।
এতে সাব-ইন্সপেক্টর গোকুল জয়শ্রী এবং গাড়ির চালকসহ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা বাহারুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। লখিমপুরের পুলিশ সুপার গুনেন্দ্র ডেকা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা ছিল। অতবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দলটি পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল আমলে বর্ষশেষের শেষ দিনে জাঁকিয়ে শীতের রেকর্ড শহর তিলোত্তমার, পারদ নামল ১১ ডিগ্রিতে
ঘটনার পর পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালায়। ২৯ ডিসেম্বর ১০ জনকে গ্র্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিরা হলেন আফাজুদ্দিন, ইকরামুল হুসেন, ফখরুদ্দিন আহমেদ, নুর হুসেন, গুলজার হুসেন, নজরুল হক, কাজিমুদ্দিন, মো. আব্দুল হামিদ, বিলাল হুসেন এবং অতবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাহারুল ইসলাম এখনও পলাতক, তবে পুলিশ তাকে শিগগিরই গ্র্রেফতার করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।এই ঘটনা অসমের সংবেদনশীল সম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অসমে বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়, যাদের প্রায়শই ‘মিয়া’ বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
অনেকে তাদের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে অভিযোগ করেন, যদিও অনেকের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে অসমে বসবাস করছে। রাজ্য সরকারের উচ্ছেদ অভিযান এবং ভূমি জিহাদের অভিযোগ নিয়ে প্রায়শই উত্তেজনা দেখা যায়। এই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলাকে অনেকে আইনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।









