বিশেষ প্রতিবেদন:
গতকাল ১৪ ঘণ্টা আগেই বঙ্গ বার্তা পূর্বাভাস দিয়ে সতর্ক করেছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তিব্বত autónomous অঞ্চলের নাগকু শহরে এক শক্তিশালী ও ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং নাগকু শহরের এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ব্যুরোর তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রলয়ঙ্করী ভূকম্পনে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন।
শুক্রবার রাত ২টো ২৫ মিনিটে প্রকাশিত সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আহত ৩২ জনের মধ্যে ১১ জনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাকি ২১ জন সাধারণ জখম নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ হাড়হিম করা তথ্য! ভারতে যে কোনও মুহূর্তে ৮.১ মাত্রায় জোরাল ভূমিকম্পের আশঙ্কা
ভূমিকম্পের সময় ও উৎসস্থল
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ঠিক ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ (জিএমটি ১৪৩৩) এই বিধ্বংসী কম্পন অনুভূত হয়। উত্তর তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের একটি জনবিরল ও অত্যন্ত উচ্চ পার্বত্য এলাকায় এই ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল। ‘চিন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র’ (CENC)-এর তথ্য জানাচ্ছে যে, ভূপৃষ্ঠের অতি গভীরে নয়, বরং মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল।
সিইএনসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎসস্থলের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অঞ্চলের গড় উচ্চতা ছিল প্রায় ৪,৮৬৪ মিটার বা ১৫,৯৬০ ফুট। তিব্বতের রাজধানী লাসা শহর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু অবস্থান করছিল।
তীব্র আতঙ্ক ও উদ্ধারকার্য
হঠাৎ ঘটা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে তীব্র কম্পন অনুভূত হতেই আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে ফাঁকা রাস্তায় ও খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে আসেন। অনেকে তীব্র ঠান্ডার মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো গাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্ক প্রকাশ করে জানান যে, প্রবল ভূকম্পনের জেরে তাঁদের গভীর রাতের ঘুম ভেঙে যায় এবং সে সময় ঘরের ছাদ ও দেওয়াল থেকে ভীতিজনক মটমট শব্দ আসতে শুরু করেছিল।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। স্থানীয় দমকল বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য উদ্ধারকারী দলগুলি ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে।
পরবর্তী আফটারশক ও অতীতের স্মৃতি
প্রধান ভূমিকম্পটি ঘটার পর সিইএনসি জানিয়েছে যে, ওই একই এলাকায় ৩ থেকে ৪ মাত্রার একাধিক ছোট ছোট আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ ও আতঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের পর চীনে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর আগে ২০১০ সালে চীনের ছিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ২,৬৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর পর আবারও তিব্বতের এই বিপর্যয় অতীতে ঘটা বড় ধরনের ভূকম্পীয় স্মৃতির কথা ফিরিয়ে এনেছে।


