দেবজিৎ মুখার্জি, বীরভূম
দীর্ঘ দুঃসময়ের অন্ধকার কাটিয়ে ফের যেন আলোয় ভেসে উঠছেন তিনি। বীরভূমের ‘কেষ্ট’ এখন অনেকটাই স্বমহিমায়। দলের কোর কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ফের গুরুত্ব পেয়েছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আর সেই জোয়ারেই এবার তাঁর চেনা আঙিনা বোলপুরে, ধুমধাম করে হতে চলেছে কালীপুজো।
আরও পড়ুনঃ দার্জিলিংয়ে ‘দিদি’র সঙ্গে বৈঠকের পরই বড় দায়িত্ব, NKDA-র চেয়ারম্যান হলেন কানন
দলের বিজয়া সম্মিলনী থেকে পুজোর প্রস্তুতি, সবেতেই ব্যস্ত অনুব্রত। বোলপুরের পার্টি অফিসে চলছে তোড়জোড়। শোনা যাচ্ছে, আগের মতোই সোনায় মোড়া হবে মা। তবে, ২০২১ সালের মতো ৫৭০ ভরি গয়না পরাবেন কি না, তা নিয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। সূত্রের খবর, “এ বছরও কম কিছু নয়!”
অনুব্রত নিজেই জানালেন, ‘‘আমার এই পুজো প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। একসময় অফিসের নিচের তলায় হত, পরে নিয়ে যাওয়া হয় উপরের তলায়। সেখানেই চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।’’ স্থানীয়রা বলছেন, কেষ্টর রাজনৈতিক গ্রাফ যত উঠেছে, ততই বেড়েছে পুজোর জৌলুস। গরু পাচার মামলায় জেলযাত্রার সময়টাতেই যেন পুজোর রং ফিকে হয়েছিল। সেই সময় মা–এর গয়নাও তদন্তের আওতায় আসে।
তবে এ বার চিত্রটা একেবারেই অন্য। তদন্তের আতঙ্ক পেরিয়ে দলে ফের ‘অবস্থান মজবুত’। নেত্রী নিজে জানিয়ে দিয়েছেন, বীরভূমে অনুব্রতের বিকল্প এখনও কেউ নন। ফলে, এবারের পুজোয় তাঁর চেনা ‘কেষ্ট মেজাজ’ ফিরে এসেছে পুরোদমে।
আরও পড়ুনঃ ছোট্ট মেয়ের স্বপ্নাদেশে শুরু, চাঁদুনি মায়ের ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে
তবে, মুখে যেন এখনো আগের মতোই নির্বিকার। ‘‘যেভাবে প্রতি বছর পুজো হয়, এবছরও তেমনই হবে। মা–এর যা গয়না আছে, সবটাই পরানো হবে। আমি নিজে হাতে পরাই না, যাঁরা সব সময় সাজান, তাঁরাই সাজাবেন,’’ বলছেন অনুব্রত।
পুজোর দিন রাতভর থাকবে জমজমাট আয়োজন। প্রায় তিন হাজার মানুষের ভোগের আয়োজন হচ্ছে। কেষ্ট নিজেই বললেন, ‘‘এখন বসে খাওয়া কমে গিয়েছে। তাই মাটির সরার ব্যবস্থা করেছি। অনেকে ভোগ বাড়ি নিয়ে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে খান।’’
আর কেষ্টর কালীপুজোকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে এখন উৎসবের আমেজ। কেষ্টর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘‘দলীয় নেতা–কর্মীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষও পুজোয় আসেন প্রচুর। ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।’’
বছর ঘুরে তাই ফের আলো ঝলমলে বোলপুর পার্টি অফিস। মা কালী আবারও সাজবেন সোনায়, ভোগে থাকছে ভুরিভোজ। রাজনীতির ওঠানামার মাঝে একটাই ধ্রুব সত্য, ‘কেষ্টর কালীপুজো মানেই বীরভূমে উৎসব!’









