Friday, 17 April, 2026
17 April
Homeদক্ষিণবঙ্গFreedom Fighter: আমরা শুধু মনে রেখেছি সূর্য সেনকে, বিলুপ্ত হয়ে গেছেন 'ফুটু...

Freedom Fighter: আমরা শুধু মনে রেখেছি সূর্য সেনকে, বিলুপ্ত হয়ে গেছেন ‘ফুটু দা’! সূর্যের আড়ালে ঢাকা আগুন

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের নায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন বীরত্ব, সংগ্ৰাম ও স্বাধীনতার বেদিতলে নিবেদিত মহান প্রাণ। তাঁর বীরত্ব ও ত্যাগকে আমরা যেভাবে মনে রেখেছি ও মর্যাদা দিয়েছি তেমন করে তো নয়ই, তার শতাংশের একাংশও তারকেশ্বর দস্তিদারের জন্যে করিনি। তাই আজ ১২ জানুয়ারি, তারকেশ্বর দস্তিদারেরও ফাঁসির দিনে তাঁর কথা আমরা ভুলেই আছি।

আরও পড়ুনঃ এক ভারতীয়র বিশ্বাসঘাতকতায় ধরা পড়া, সূর্য সেনের ফাঁসির আগে চলেছিল নির্মম অত্যাচার

তারকেশ্বর দস্তিদার সূর্য সেনের ৬৩ জন আগুনখেকো

সহযোদ্ধাদের মধ্যে প্রধানতম, যাঁকে ‘ফুটু দা’ বলেই সকলে চিনতো । এই  ‘ফুটু দা’র কথা চট্টগ্রাম বিপ্লবের অন্যতম কন্যা কল্পনা দত্ত তাঁর আত্মস্মৃতিতে লিখেছেন : ‘‘ধরা পড়ার পর মাস্টারদা, ফুটুদা আর আমাকে নিয়ে নতুন করে মামলা শুরু হয়েছিল। আমরা কাঠগড়ায় একসঙ্গে দাঁড়াতাম। সেইসময় একদিন ফুটুদা বলেছিলেন, তোকে ভালো লাগে। যদি ফিরে আসি, আমার জন্য অপেক্ষা করবি? আমার মৌনতায় হয়তো সম্মতি ছিল।”

‘ফুটু’দা হলেন বিখ্যাত বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার। চট্টগ্রামের সারোয়াতলীর চন্দ্রমোহন দস্তিদারের ছেলে। তারকেশ্বরকে বিপ্লবী বন্ধুরা ডাকতেন ‘ফুটুদা’ নামে।  তিনি ছিলেন দুর্ধর্ষ দুঃসাহসী বিপ্লবী। চট্টগ্ৰাম

বিদ্রোহের এক মাস আগে পাহাড়তলীতে লুকিয়ে ১৭টা বোমার জন্য পিক্‌রিক পাউডার তৈরির সময় ভয়ঙ্কর এক বিস্ফোরণে তিনি মারাত্মক আহত হন।  বাঁচার কোনো আশাই ছিল না, বুক, হাত, মুখ সাংঘাতিক ভাবে পুড়ে যায়। দেহের হাড় পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ে। দগ্ধ তারকেশ্বর কাতরাতে কাতরাতে অনন্ত সিংহকে বারবার অনুরোধ করেন, ‘আপনি আমাকে গুলি করে মেরে সংগঠনকে বাঁচান।’ কিন্তু মাস্টারদার নির্দেশে তাঁকে গোপনে গ্রামে পাঠিয়ে, চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে তোলা হয়।

আরও পড়ুনঃ ছবিতে নেই বিবেকানন্দই; স্বামী বিবেকানন্দও পেলেন না ছাড়, বাংলার লজ্জা! স্বামীজির বাড়ি সিমলা স্ট্রিটেও রাজনীতি

১৯৩৩ এর ১৬ই ফেব্রুয়ারি গৈরালা গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাসের বাড়িতে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে মাস্টারদার সঙ্গে ছিলেন কল্পনা দত্ত, শান্তি চক্রবর্তী, মণি দত্ত, ব্রজেন সেন আর সুশীল দাসগুপ্ত।  মাস্টারদা গ্ৰেপ্তার হন, কল্পনা পালাতে পারলেও , তিন মাস পর ১৯ মে  গহিরা গ্রামে পূর্ণ তালুকদারের বাড়িতে গোপন মিটিং-এ এক সশস্ত্র সংঘর্ষের পর তারকেশ্বর,কল্পনা সহ অন্যান্য বিপ্লবীরা ধরা পড়েন। তারকেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ডিনামাইট দিয়ে জেলের পাঁচিল উড়িয়ে দিয়ে মাস্টারদাকে মুক্ত করার চেষ্টা।

‘চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলা’য় মাস্টার দা ও তারকেশ্বর দস্তিদারকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। কল্পনা দত্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হন।

সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের একই দিনে, ১২ জানুয়ারি , একই ফাঁসির মঞ্চে মৃত্য নির্দিষ্ট হয়।

ফাঁসির দিনকয় আগে থেকে ব্রিটিশ জহ্লাদতন্ত্র মাস্টারদা আর তারকেশ্বর দস্তিদারকে হিংস্র নেকড়ের মতো প্রতিশোধস্পৃহায় আঁচড়ে কামড়ে রক্তাক্ত করেছে। হাতুড়ির আঘাতে আঘাতে এঁদের হাড়গোড় ভেঙে, দাঁত উপড়ে তুলে পৈশাচিক উল্লাস ভোগ করেছে।  ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিকারগ্ৰস্ত বর্বরতার এই  বিকট চেহারা বিশ্ববাসী জানতে পেরেছে ক’দিন পরে। মৃতপ্রায় সূর্য সেন আর তারকেশ্বরকে ঝোলানো হয়েছে ফাঁসির দড়িতে। নৃশংস কাপুরুষেরা মহান বিপ্লবীদের দেহ স্বজন ও স্বদেশবাসীদের হাতে তুলে দিতে ভয় পেয়েছে। তাঁদের প্রাণহীন দেহ দুটি নতুন আর এক বিপ্লবের প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে অথবা এক বৃহত্তর শোকাতুর গণ জাগরণ ও অভ্যুত্থানের জন্ম দিতে পারে। তাই তাঁদের দেহদুটি বস্তাবন্দি করে ব্রিটিশ ক্রুজার “The Renown” এ তুলে লোহার টুকরা বেঁধে মাঝ রাতের নির্জন অন্ধকারে বঙ্গোপসাগরের বহমান জলধারায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ঘাতকেরা ভেবেছিল তাঁদের দেহের সঙ্গেই ভারতের মাটি থেকে বিপ্লবের আগুন ভেসে, ভিজে নিভে যাবে। তাই সেদিন শহিদের চিতা জ্বালাতে দেওয়া হয়নি।, সমাধি ভূমি তৈরি হয়নি, কোনো স্মারকও নেই। চট্টগ্ৰাম জেলখানায় ফাঁসির মঞ্চটুকু অবশিষ্ট আছে, তাও অবহেলা এবং অনাদরে অরক্ষিত অবস্থায় , সেটিকে দেশপ্রেমের আদর্শ ও আত্মত্যাগের তীর্থ বানিয়ে তোলা যেতো। কিন্তু তারও কোনো সচেতন উদ্যোগ হয়নি।

এত কাণ্ডের পর, আমরা শুধু মনে রেখেছি সূর্য সেনকে, বিস্তৃতিতে বিলুপ্ত হয়ে গেছেন ‘ফুটু দা’, ওরফে তারকেশ্বর দস্তিদার।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন