প্রথম দফার নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকি। এই আবহেই তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে মমতার মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়। সেই সঙ্গে বাড়ল রাজনৈতিক চাপানউতোর। মঞ্চ থেকে মমতা বলেন নির্বাচনের আগেই কেন এত কেন্দ্রীয় সংস্থা এসে বাংলায় অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন যারা পার্টির কাজ করে অর্থাৎ আইপ্যাকের মত সংস্থাগুলোর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কাজ বন্ধ করার চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ সম্পূর্ণ নাটক, ভোট বঙ্গে প্যাকআপ আই প্যাক!
এমনকি বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মমতা। তার সঙ্গে মমতা যোগ করেন আইপ্যাকের উপরে কোনও চাপ তিনি বরদাস্ত করবেন না। দরকার পড়লে আইপ্যাকের সমস্ত ছেলেদের চাকরি দেবেন তিনি। মমতার এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক এবং রাজনৈতিক মহলে বিরোধীরা সরব হয়ে মন্তব্য করেছে তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে বাংলার কত ছেলে মেয়েকে চাকরি দিয়েছেন?
চাকরি দেওয়া তো দূর এমনকি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্নীতিতে ২৬০০০ শিক্ষকের পুরো প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তারা আরও বলেছেন আইপ্যাক তৃণমূলের দুর্নীতির কেন্দ্র তাই মমতা বন্দোপাধ্যায় এইসব মন্তব্য করে এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছেন। আইপ্যাক অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানে মমতার ফাইল নিয়ে আসার ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন তারা।
তবে নির্বাচন আবহে কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা বেড়েছে বাংলায় এবং সম্প্রতি আইপ্যাকের ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছে ইডি এবং প্রতীক জৈনের স্ত্রী এবং ভাইকেও তলব করা হয়েছিল দিল্লিতে ইডির দফতরে। এছাড়াও বাংলার বিভিন্ন জায়গায় জমি জমা সংক্রান্ত দুর্নীতি, কয়লা চুরি কাণ্ডের জোরদার তদন্ত চলছে। রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি মন্তব্য করেছে বাংলায় এই ধরণের কয়লা, বালি, জমি চুরি আর চলবে না।
আরও পড়ুনঃ মহাকাশের বুকে এক চলন্ত শহর; প্রক্সিমা সেন্টাউরির পথে যাত্রা!
দুষ্কৃতীদের সময় শেষ হয়ে এসেছে এমনটাও বলেছেন তারা। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এর তীব্র প্রতিবাদ করে বলেছে নির্বাচনী আবহে মানুষকে ভুল বোঝানোর জন্য বিজেপি এই ধরণের ভুয়ো রেড করাচ্ছে। কারুর কাছ থেকে বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি যাতে নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তবে মমতার এই মন্তব্যে বিরোধী শিবির আক্রমণ শানিয়ে বলেছে মমতা অতীত হয়ে যাবেন এবং কাউকেই আর চাকরি দিতে পারবেন না এদবং তার সঙ্গে আইপ্যাকও এই রাজ্যে অতীত হয়ে যাবে।



