এক নিমেষে বদলে গিয়েছে জীবন। রবিবার বিকেলের পর থেকে ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড়ের ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম কুমার সাউ এখন স্রেফ এক হকার নন, রীতিমতো এক ‘সেলিব্রেটি’। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খোদ প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছেন, এই খবর চাউর হতেই এখন বিক্রমের দোকানে তিল ধারণের জায়গা নেই।
রবিবার ঝাড়গ্রামে বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে ফেরার পথে আচমকাই কনভয় থামিয়ে ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে বিক্রমের ছোট্ট গুমটি দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি। বিক্রম জানান, প্রধানমন্ত্রী আসার মিনিট ১৫ আগে থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা কর্মীদের আনাগোনা বেড়েছিল। তবে তাঁরা যে সরাসরি তাঁর দোকানেই আসবেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি ১২ বছর ধরে এই ব্যবসা চালানো বিক্রম।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ‘নজিরবিহীন’ বৈঠক; যুদ্ধের মেজাজে আধাসেনা
বিক্রমের কথায়, “মোদীজি যখন দোকানে এলেন, আমি কী বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তিনি আমার থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি চেয়েছিলেন। আমি ওনার থেকে টাকা নিতে চাইনি, কিন্তু উনি জোর করেই টাকা দিয়ে যান।”
বিক্রমের এই দোকানের নেপথ্যে রয়েছে এক সংগ্রামের ইতিহাস। কয়েক বছর আগে রাস্তা চওড়া করার সময় তাঁর পুরনো দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে বিক্রমসহ ৫৩ জন ব্যবসায়ী নতুন দোকানের জায়গা পান। ২০২৫ সালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন গুমটি ঘরটি পান বিক্রম। আর সেই দোকানেই এবার পা রাখলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ ‘সব বাংলাদেশি মুসলিমকে লাথি মেরে তাড়াব’, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার
প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিলেও ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে নিয়ে উন্মাদনা কমছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সবার একটাই আবদার, বিক্রমের সঙ্গে সেলফি তোলা আর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল তা খুঁটিয়ে জানা।
বিক্রম জানান, তাঁর বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছেও অনবরত ফোন আসছে। প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত বিক্রমের কথায়, “ব্যবসা করাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবাই শুধু জানতে চাইছেন মোদীজি ঠিক কী বলেছিলেন।”
রাতভর ফোনের জ্বালায় অতিষ্ঠ হলেও, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে যে তাঁর দোকানের বিক্রি ও পরিচিতি কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই স্থানীয়দের। আপাতত ঝাড়গ্রামের ‘টক-অব-দ্য-টাউন’ বিক্রমের সেই ১০ টাকার স্পেশাল ঝালমুড়ি।



