রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে যে মাসিক পেনশন পাওয়ার কথা, তা প্রত্যাখ্যান করলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ভোটের আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী।
চিঠিতে বিকাশরঞ্জন জানিয়েছেন, রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে তিনি কোনও আর্থিক পেনশন গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। সংসদীয় রেকর্ডে যাতে তাঁর এই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে, তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন। সাধারণত অবসরের পর প্রাক্তন সাংসদদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পেনশন দেওয়া হয়, যা বিকাশরঞ্জন ত্যাগ করলেন।
আরও পড়ুনঃ ঐতিহাসিক রায়, বাংলায় ‘আর্টিকল ১৪২’ প্রয়োগ শীর্ষ আদালতের
যাদবপুর কেন্দ্র থেকে এ বার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী করেছে সিপিএম। এর আগে ওই কেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। গত ৮ এপ্রিল সিপিএম প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন রাজ্যসভার এই প্রাক্তন সাংসদ।

হলফনামা বলছে, ৬৭ হাজার ৩৯১ টাকা নগদ রয়েছে বিকাশের। তাঁর নামে স্থায়ী আমানত, পিপিএফ-সহ মোট সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ তহবিলের একটি অ্যাকাউন্টও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর কিছু বিনিয়োগও রয়েছে। বিকাশের স্ত্রী ইভা ভট্টাচার্যের নামে মোট চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ২২ হাজার ৮৫০ টাকা।
আরও পড়ুনঃ যাদবপুর To গড়িয়াহাট; ২৪ এপ্রিল কলকাতার রাজপথে তৃণমূল সুপ্রিমো
সম্পত্তির হিসাবে, ২০১৫ সালে বিকাশ ৩ লক্ষ টাকায় একটি গাড়ি কিনেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ৭২ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি অডি গাড়ি কেনেন, এবং বর্তমানে এই দু’টি গাড়িই তিনি ব্যবহার করেন। তাঁর স্ত্রীর কাছে মোট ৬০০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লক্ষ ৯ হাজার ৮০০ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, বিকাশের মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ২৮৮ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৪৯ টাকার।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিকাশের নিজের নামে কোনও সম্পত্তি বা বাড়ি নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে দু’টি বাড়ি রয়েছে, যার মোট মূল্য ৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮০ টাকা। এছাড়াও, বিকাশ জানিয়েছেন যে তাঁর কাছ থেকে তাঁর স্ত্রী ৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন।



