সোনারপুরে শনিবার যা ঘটল, তাকে কি আদৌ ‘হঠাৎ’ ঘটা কোনো ঘটনা বলা যায়? নাকি এটি নিছকই তৃণমূলের দুর্বল এক রাজনৈতিক চিত্রনাট্য? তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে—পুরো ঘটনাটি কি আদতে সাজানো নয় তো?
ঘটনার পর থেকে যে প্রশ্নগুলো বারবার ঘুরেফিরে আসছে:
আরও পড়ুনঃ কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! সোনারপুরে অভিষেককে মারের পিছনে তৃনমূলেরই হাত! এবার শুরু ধড়পাকড়
হেলমেটের রহস্য:
সাধারণ বাইকের হেলমেট নয়, পুলিশের বা খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত বিশেষ হেলমেট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছালো কীভাবে? ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অভিষেকের পৌঁছানোর আগেই তাঁর নির্দেশে এক তৃণমূল কর্মী হেলমেটটি নিয়ে হাজির হয়েছেন। পুলিশকে আগে থেকে না জানিয়ে বা থানায় সাহায্য না চেয়ে হঠাৎ এই নিরাপত্তার আয়োজন কেন?
সাক্ষাতের স্থান:
বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের পরিবারের সাথে কুণাল ঘোষের বাড়িতে দেখা করার কারণ কী? সবটাই কি তবে আগে থেকে ছক কষা ছিল?
অসুস্থতার নাটক:
সঞ্জু পট্টনায়েকের বাড়িতে ঘন্টার পর ঘন্টা চিৎকার করে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রাখার সময় সুস্থ থাকা নেতা, কলকাতায় ফিরতেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালেও রহস্যজনকভাবে ধরা পড়ছে না কোনো সমস্যা! এসব কি সিআইডির হাজিরা এড়ানোর কৌশল?
আরও পড়ুনঃ অখিল গিরির অফিসে পুলিশি অভিযান! উদ্ধার কাড়ি কাড়ি ত্রিপল-শাড়ি
রাজনৈতিক লাভের সমীকরণ:
১. মিডিয়া কাভারেজ: ১৬-১৮ ঘন্টা ধরে লাইমলাইটে থাকা।
২. জাতীয় প্রচার: নিজেকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার সস্তা প্রচেষ্টা।
৩. ইমেজ মেকওভার: ‘পিসির কোলে চড়া’ তকমা ঝেড়ে ফেলে ‘রাস্তার নেতা’ সাজা।
৪. হাজিরা এড়ানো: বিধানসভায় সই জাল কান্ডে ১লা জুনের হাজিরা থেকে বাঁচতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া।
৫. নিরাপত্তা বৃদ্ধি: এই নাটক দেখিয়ে আদালতের কাছে Y বা Z ক্যাটাগরির সুরক্ষা চাওয়া।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—প্রতিবেশীদের দাবি অনুযায়ী, সঞ্জু কর্মকারের মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোকের কারণে। তাহলে সেটাকে ‘পোস্ট পোল ভায়োলেন্স’ বলে নাটক করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কারণ কী? তৃণমূলের এই দুর্বল চিত্রনাট্য আবার প্রমাণ করছে, প্রচারে থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার পরিকল্পনা করেও বিশেষ লাভ হলো না। ভাইপোকে হাসপাতালেও ভর্তি করা গেল না। কিছু হয় নি বলে ফিরিয়ে দিল দু দুটি বেসরকারি হাসপাতালও! একেবারে ফ্লপ শোয়ে পরিণত হলো পিসি ও ভাইপোর পরিকল্পনা!!



