তৃণমূল এখন দুই ভাগে বিভক্ত—একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ মমতা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন এবং ঋতব্রতের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে নিচুতলার কর্মীরা কোথায়? তারা কোন শিবিরে আছে? এই প্রশ্ন নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। এই অস্থিরতায় তৃণমূলের ভিতরে নতুন ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ভাঙন তৃণমূলের ক্ষতি করেছে, কিন্তু সিপিএমের জন্য তা সুযোগ এনে দিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর সোনাপুকুর-শংকরপুর গ্রামের ঝুজুরগাছা এলাকায় সম্প্রতি সিপিএম একটি সভার আয়োজন করে যেখানে শতাধিক তৃণমূল সমর্থক যোগ দেন। তারা অভিযোগ করেন, তৃণমূল দীর্ঘদিন দুর্নীতির বৃত্তে লিপ্ত ছিল এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সিপিএমের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাস রেখে তারা দল পরিবর্তন করেছেন।
সিপিএম নেতা রাজু আহমেদ জানান, “তৃণমূলের অত্যাচার থেকে পালিয়ে এই মানুষগুলো আবার আমাদের কাছে ফিরছে। এখন লাল পতাকার তলে তারা আবার মিলিত হচ্ছে। কৃষক সভা, সিআইটিউ, ছাত্র-যুব সংগঠনেও তাদের যোগদান হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হচ্ছে।”
আরও পড়ুনঃ বদলের বাংলায় রথের বদলে ট্রাম যাত্রা করবেন জগন্নাথ-বলরাম-শুভদ্রা
সিপিএম-এ সদ্য যোগদানকারী মণিরুল মোল্লা বলেন, “এখানে এসে ভালো লাগছে, এত সম্মান আগে কোথাও পাইনি।” এই পরিবর্তন থেকে স্পষ্ট যে, তৃণমূলের আভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে কর্মীরা নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করছে এবং সিপিএম সেই সুযোগে তাদের গ্রহণ করছে।


