কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
স্কুলেরই এক মহিলা অশিক্ষক কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার ‘অপরাধে’ এক শিক্ষককে ঘিরে দিনভর চরম বিক্ষোভ দেখাল ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল স্কুল প্রাঙ্গণ, এমনকি ওই শিক্ষকের স্কুটি ভাঙচুর করার অভিযোগও উঠল নাবালক পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে গেল কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম হাইস্কুলে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষক বা কর্মীর ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কীভাবে নাবালক ছাত্রছাত্রীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে এমন তাণ্ডব চালাতে পারে, তা নিয়ে শিক্ষা ও সমাজ সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ।
আরও পড়ুনঃ উত্তাল রিও ডি জেনেইরো; ফ্রান্সে সাফল্যের পর এবার ব্রাজিলেও ‘জেন জি’ তাণ্ডব
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্তাল পানিগ্রাম হাইস্কুল
অভিযোগের তির পানিগ্রাম হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন-এর দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
আশঙ্কা ও গুঞ্জন: ওই স্কুলেরই এক মহিলা অশিক্ষক কর্মীর সঙ্গে শিক্ষক মুরতাজা আল আমিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে দিন পনেরো আগে স্কুলে চাউর হয়।
-
স্কুলে না-আসা: ঘটনা জানাজানি হতেই সামাজিক অস্বস্তি এড়াতে গত দু’সপ্তাহ ধরে স্কুলে আসা বন্ধ রেখেছিলেন ওই শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী।
-
বৃহস্পতিবারের তাণ্ডব: দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার শিক্ষক স্কুলে যোগ দিতে এলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর পথ আটকায় ছাত্রছাত্রীদের একাংশ। “স্কুলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে” -এই অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে তারা।
-
ভাঙচুর ও বিক্ষোভ: বিক্ষোভ চলাকালীনই উত্তেজিত পড়ুয়ারা ওই শিক্ষকের দাঁড়িয়ে থাকা স্কুটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষককে ঘেরাও করে রাখে।
পুলিশি উদ্ধার ও শিক্ষকের বক্তব্য
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর দেওয়া হয় নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশকে। পুলিশ দ্রুত স্কুলে পৌঁছে বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রাঙ্গণ খালি করে এবং ঘেরাও থাকা শিক্ষককে উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বাংলা শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন বলেন:
শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া:
“আমার বিরুদ্ধে যেসব কথা রটানো হচ্ছে, তার সবটাই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। আমি কোনো অন্যায় করিনি।”
আরও পড়ুনঃ চলন্ত রাস্তায় আচমকা ধস! পাল্টি খেয়ে সিঙ্কহোলে পড়ল গাড়ি
শিক্ষা মহল ও সচেতন সমাজের প্রশ্ন
ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষাবিদ, প্রবীণ শিক্ষক ও আইনজীবী মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মূল বক্তব্য:
১. ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দে সম্পর্কের মধ্যে আছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বা বিচারসভার বসানোর কোনো এক্তিয়ার নাবালক ছাত্রছাত্রীদের নেই। ২. নাবালকদের আচরণ ও উস্কানি: স্কুলের ভেতরে একজন শিক্ষকের স্কুটি ভাঙচুর করা এবং ঘেরাও করে রাখা চরম আইনশৃঙ্খলাহীনতার শামিল। নেপথ্যে কোনো বহিরাগত বা রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ৩. প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি: কেবল আলোচনার মাধ্যমে শান্ত করা নয়, যাঁরা শিক্ষকের ওপর আক্রমণ ও সরকারি/ব্যক্তিগত সম্পত্তি (স্কুটি) ভাঙচুরে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও অনুশাসন মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।


