spot_img
Monday, 2 March, 2026
2 March
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজUS-Israel: শত্রুর হাত শক্ত করে ইসরায়েলের কাছে, বিভিষণ আমেরিকা!

US-Israel: শত্রুর হাত শক্ত করে ইসরায়েলের কাছে, বিভিষণ আমেরিকা!

এ বছরের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লি সফরে আসার কথা রয়েছে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

শুভজিৎ মিত্র,কলকাতাঃ

আচ্ছা ! ভাবুন তো,আপনার বন্ধু যে কিনা,বহুদিন ধরে আপনার বিপদের  দিনে আপনার পাশে থেকেছে।এমনকি যাতে আপনি আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াইতে মদত জুগিয়েছে,অথচ সেই বন্ধু হঠাৎ করে আপনার সেই বন্ধু আপনার শত্রুর হাত শক্তপক্ত করার জন্য সাহয্যকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়,তাহলে কেমন লাগবে?

কি ভাবছেন,হঠাৎ কেন এই কথা বলছি? আসলে গাছে তুলে দিয়ে মই কেড়ে নিলে যেই অবস্থা হয়,সেই অবস্থা হয়েছে,ইসরায়েলের।কারণ,সাম্প্রতিক সৌদি আরবকে পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ লড়াকু যুদ্ধবিমান বিক্রির কথা চিন্তা করছে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াধের বিমানবাহিনী সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটি হাতে পেলে ইজ়রায়েলের রক্তচাপ যে বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুনঃ সিঙ্গল ডিজিটে নেমে এল দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা, পারদ-পতন তিলত্তমা সিটি অফ জয়-তেও

পেন্টাগনের বড়দিনের উপহার রিয়াধকে

রিয়াধের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর গর্বের পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ শ্রেণির লড়াকু জেট এফ-৩৫ লাইটনিং টু তুলে দেবে,পেন্টাগন।বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি,খবরটা বাস্তবে পরিণত হলে তা হবে,পেন্টাগনের দেওয়া বড়দিনের উপহার হবে সেটা রিয়াধের কাছে।সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে পড়ে গিয়েছে শোরগোল।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাসঘাতকতা

এখনও পর্যন্ত কোনও আরব দেশকে এফ-৩৫ বিক্রি করেনি যুক্তরাষ্ট্র।সেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিশ্বসঘাতকতা অবাক করেছে,তেল আভিভকে। ফলে চুক্তি চূড়ান্ত হলে প্রথম দেশ হিসাবে সংশ্লিষ্ট লড়াকু জেটটিকে হাতে পাবে সৌদি। ২০২৫ সালের গোড়ায় দ্বিতীয় বারের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্প শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে রিয়াধ। তখনই ৪৮টি পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চেয়েছিলেন যুবরাজ সলমন। যদিও ওই সময় ওয়াশিংটনের থেকে কোনও আশ্বাস পাননি তিনি।

গত মে মাসে সৌদির জন্য ১৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বিরাট একটি অস্ত্র প্যাকেজের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। তাতে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিমানবাহিনীর একাধিক হাতিয়ার, মহাকাশভিত্তিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ফৌজি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার বিভিন্ন সরঞ্জাম। রয়টার্সের দাবি, ওই তালিকায় ছিল না এফ-৩৫ লড়াকু জেটের নাম। পরে সিদ্ধান্ত বদলে এ ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করে ওয়াশিংটন, খবর সূত্রের।

পেন্টাগনের বক্তব্য

আমেরিকার যুদ্ধ দফতরের এক পদস্থ কর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, পেন্টাগনের নীতি বিভাগ এ ব্যাপারে গত কয়েক মাস ধরেই কাজ করে যাচ্ছে। সেখানে আলোচনা প্রতিরক্ষা সচিব পর্যন্ত পৌঁছেছে। তবে এফ-৩৫ লড়াকু জেট বিক্রির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রীসভা এবং মার্কিন পার্লামেন্ট ‘কংগ্রেস’-এর থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলে তবেই চুক্তির কাগজে সই করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর তাই যুবরাজ সলমনের সফরের আগে গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্টই কম।

চুক্তির গেরো!

এই পরিস্থিতিতে সৌদি বিমানবাহিনী এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক লড়াকু জেট হাতে পেলে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তিটি হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বাধা হল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইজ়রায়েলের দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি। এর শর্ত অনুযায়ী ইহুদিদের সরবরাহ করা কোনও হাতিয়ার কখনওই তাদের প্রতিবেশী বা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে বিক্রি করে না আমেরিকা। ট্রাম্পের পক্ষে সেই সমঝোতা ভেঙে ফেলা একেবারেই সহজ নয়।

আরও পড়ুনঃ কার্তিক কৃষ্ণা অষ্টমীতে জাদু করবে ব্রহ্মা যোগ, ব্যবসায় বাজিমাত করবে এই চার রাশি

তেল আভিভ-এর আশঙ্কা!

কিন্তু তার পরেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ রেখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইজ়রায়েলি গণমাধ্যম ‘দ্য জেরুজ়ালেম পোস্ট’। সেখানে বলা হয়েছে, আমেরিকার পাশাপাশি ইরান, রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক মজবুত করছে রিয়াধ। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে সামরিক জোট গড়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এফ-৩৫ হাতে পেলে এর প্রযুক্তি মস্কো, বেজিং এবং তেহরানের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে সৌদি সরকার। তখন তেল আভিভের পক্ষে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজ়রায়েলি ফৌজের এক শীর্ষকর্তা ‘দ্য জেরুজ়ালেম পোস্ট’কে বলেছেন, ‘‘মার্কিন কংগ্রেস এফ-৩৫ বিক্রির অনুমোদন দিলে আমাদের কৌশল বদলাতে হবে।’’ পশ্চিম এশিয়ার এই ইহুদি রাষ্ট্রটিকে কখনওই স্বীকৃতি দেয়নি সৌদি আরব এবং ইরান। ২০২৫ সালের জুনে স্বল্প পরিসরে একটি যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ে তেহরান এবং তেল আভিভ। সেই সংঘাত ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। সংঘর্ষের একেবারে শেষ পর্যায়ে ইহুদিদের পাশে দাঁড়িয়ে সাবেক পারস্য দেশে বোমাবর্ষণ করে মার্কিন বায়ুসেনা।

এফ-৩৫’র গুণাবলী

এফ-৩৫ লড়াকু জেটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এর ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তি। বিশ্বের যে কোনও রেডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ওই মার্কিন যুদ্ধবিমানের। ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালীন খুব দ্রুত সাবেক পারস্য দেশটির আকাশের দখল নিয়ে ফেলে ইহুদি বায়ুসেনা। শুধু তা-ই নয়, বিমান থেকে হামলা চালিয়ে খুঁজে খুঁজে তেহরানের আধা সেনা ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি কর্তা এবং পরমাণু গবেষকদের নিকেশ করে তেল আভিভ। প্রতিটা ক্ষেত্রেই সামনের সারিতে ছিল এফ-৩৫।

ইন্দো-ইহুদি জোটের সম্ভাবনা

গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘কৌশলগত এবং পারস্পরিক’ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সৌদি সরকার। তার শর্ত অনুযায়ী, কোনও একটি দেশ অন্য কোনও দেশের আগ্রাসনের শিকার হলে তা উভয় দেশের উপরেই আঘাত হিসাবে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে এই সমঝোতায় অন্যান্য ইসলামীয় দেশগুলিকেও টানতে চায় ইসলামাবাদ। এর জেরে ইজ়রায়েলের রক্তচাপ যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

এ বছরের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লি সফরে আসার কথা রয়েছে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর। সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তির তিন মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তার আগে রিয়াধ এফ-৩৫ লড়াকু জেটের প্রস্তাবিত সমঝোতা চূড়ান্ত করে ফেললে গোটা বিষয়টি অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। তখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ইহুদিরা কোন চোখে দেখে, তার উত্তর দেবে সময়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন