বিহারের খান্ডাইল গ্রামে একটি বাড়িতে সাদা পাগড়ি প্রস্তুত রাখা, নিমন্ত্রণপত্র বিলি হয়ে গিয়েছে, কাজী সাহেবও ৩০ মার্চ নিকাহ পড়ানোর জন্য তৈরি। কিন্তু বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসলেও বরের দেখা নেই। কুয়েতে কর্মরত মিনহাজ ফিরতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জড়িত সংঘাতের জেরে ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ বন্ধ, এসবের কারণে প্রবাসী বররা আটকে পড়েছেন। এই একটি ঘটনা নয়, বিহারের গয়া, জেহানাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় ডজনখানেক বিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীল গ্রামের ছবি
খান্ডাইল ও আশপাশের গ্রামে ৪০০-এর বেশি যুবক সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েতে কাজ করেন। রেমিট্যান্সের টাকায় কংক্রিটের বাড়ি উঠেছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভরেছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। ঈদ-বকরি ঈদের সময় তাঁরা ফিরে এসে বিয়ের ধুম লাগিয়ে দেন। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে গিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার জেরে অনেক দেশ আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে দিয়েছে। ফ্লাইট বাতিল, টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। যাঁরা টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তাঁরাও আটকে গিয়েছেন।
মিনহাজের বাবা রাফি খান বলেন, “কনের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। পরিস্থিতি শান্ত হলে নতুন তারিখ ঠিক করব। কিন্তু এখন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।”
আরও পড়ুনঃ মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটে মিলবে গ্যাস; জানতে হলে দেখে নিন
অনলাইন বিয়ের কথা ভাবছে অনেকে
স্থানীয় সমাজনেতা জাভেদ খান বলেন, “আমার পরিবারেই দুটি বিয়ে আটকে আছে। একজন বাহরাইনে, অন্যজন কাতারে। দুজনেই ফিরতে পারছেন না। অনেকে এখন অনলাইন বিয়ের কথা ভাবছেন। কিন্তু প্রথাগত বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়—এসব তো অনলাইনে পাওয়া যায় না।”
এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটও যোগ হয়েছে। অনেক পরিবার বিয়ের রান্নার জন্য আবার কাঠ-লাকড়ির চুলায় ফিরে যাচ্ছে। কেউ কেউ হোটেল বুকিং বাতিল করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত, দেখুন এই ওয়েবসাইটে
বাংলার পরিবারগুলোতেও প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায়ও প্রবাসী যুবকদের সংখ্যা কম নয়। সেখানেও একই অবস্থা। অনেক পরিবারে বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ অনলাইন বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু সাংস্কৃতিক ও আবেগের দিক থেকে এটা কোনও সমাধান নয়, এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু রাজনৈতিক নয়, এখন ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবারের স্বপ্ন ও উৎসবের উপরও ছায়া ফেলেছে। প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভরশীল গ্রামগুলোতে এখন অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার দিন কাটছে।



