দলবদলের অঙ্ক কষতে গিয়ে বরানগরের সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত। সকলেরই এক কথা, কী যে হচ্ছে বুঝতেই পারছি না। ফুল বদলাতে বদলাতে ভোটটাই কোথায় যাচ্ছে ধরা যাচ্ছে না। অনেকেই বলছেন, “তাপস রায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু পার্নো মিত্রকে এনে তৃণমূল কী লাভ করবে, সেটাই বোধগম্য নয়। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোট নিয়ে ছেলেখেলাই চলছে।”
শুক্রবার তৃণমূলে যোগ দিলেন অভিনেত্রী এবং বরানগরের বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্র। তৃণমূল থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ তাপস রায়। তিনি এখন জোড়াফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে। এই ঘটনাকে ইস্যু করেই ফের আক্রমণ শানিয়েছে বাম শিবির। বাম শিবির দাবি করে বাংলায় বিজেপি তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দল হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে অলিখিত চুক্তি।
আজকের এই পার্নোর দলবদলও এই সেটিঙেরই অংশ তাও দাবি করেছে সিপিএম শিবির। একসময় পার্নো বিজেপির হয়ে তাপসের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। এবার আবার তাপস বিজেপিতে এবং দলবদল করে পার্নো তৃণমূলে। এই ঘটনাতেই ফের বামেরা সরব হয়ে দাবি করেছে বাংলায় আসলে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নয়। তৃণমূলই ফের ক্ষমতায় আসবে এবং তার জন্য সাহায্য করবে বিজেপি।
শুধু বামেরাই নয় পার্নোর দল বদলকে ঘিরে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। “আজকে এই খবরটা না হলে জানতেই পারতাম না পার্নো মিত্র বিজেপি তে ছিলেন এবং তৃণমূলে গেলেন। অভিনেত্রী হিসেবে উনাকে সম্মান করি, সেই সম্মানটা থাকবে। তিনি বিজেপির কোনদিন ছিলেন না, প্রার্থী হয়েছিলেন যখন তখনও বিজেপিকে জানতেন না।। ভোটে হারার পর ওনার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক
ওনার আসা যাওয়া অথবা স্রোতে ভাসা নিয়ে রাজনীতির কেউ ভাবিত নয়। উনার জন্য শুভকামনা থাকলো। ভাতৃ সংঘ ক্লাবের সদস্য না হলে কাজ পাওয়া যায় না।” অর্থাৎ বিজেপি সরাসরি অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের স্বজন পোষণের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের সঙ্গে থাকলে অভিনয়ে সুযোগ পাওয়া যায় তাই বিজেপি নেত্রীর এই হঠাৎ রঙ বদল।
কার্যত এমনটাই অভিযোগ করেছেন তরুণজ্যোতি। সম্প্রতি এই ধরণের ঘটনা এবং অভিযোগ সামনে এসেছে যেখানে সরকারি দলে না থাকার দরুন হেনস্থা হতে হয়েছে শিল্পীদের। লগ্নজিতার অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা এবং ঠিক তার অব্যবহিত পরেই অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার অভিযোগ আনেন গায়ক পল্লব কীর্তনিয়া। তিনি সরাসরি রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে পভিযোগ করেন গত ১০ বছরে তৃণমূলকে সমর্থন না করে বহু শো থেকে তিনি বাদ পড়েছেন। সুতরাং বামেদের বিজেমুল সেটিং তত্ত্ব নাকি বিজেপির অভিযোগ সত্য কি তা সময়ই বলবে।









