আইএসএফ আর কংগ্রেসের ‘হাত’ কি ছাড়ছে বামফ্রন্ট? একুশের নির্বাচনে যা দেখা গিয়েছিল, ছাব্বিশের নির্বাচনে সেই জোট কি আর দেখা যাবে না? এইসব প্রশ্নের মধ্যেই ‘শূন্য’ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ফ্রন্টের বাইরেও বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিল বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, বামফ্রন্টের শরিক ছাড়াও সিপিআইএমএল লিবারেশন, এসইউসিআই-সহ বাম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে বৃহত্তর বাম জোট গড়ে তোলা হবে। আর গতকালের এই বৈঠকে আইএসএফ ও কংগ্রেসের নাম আলোচনায় উঠল না।
আরও পড়ুনঃ শীতে রাজ্যজুড়ে কেনাকাটার জোয়ার, বেড়েছে বাজারের ব্যবসা প্রবলভাবে
২০১৬ এবং ২০২১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল বামফ্রন্ট। একুশের নির্বাচনে কংগ্রেসের পাশাপাশি আইএসএফ-ও বামফ্রন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়েও বামফ্রন্টের কোনও লাভ হয়নি। একুশের নির্বাচনে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে বামেদের। ফলে ছাব্বিশের নির্বাচনে বামফ্রন্ট কারও সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়বে কি না, তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই জল্পনা চলছে।
এর আগে এক বৈঠকে বামফ্রন্টের বেশিরভাগ শরিক কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। সেই বৈঠকে ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, সাতাত্তর সালে তারা যেসব আসনে লড়েছিল, সেই আসনগুলি তাদের দেওয়া হোক। সাতাত্তর সালে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠনের সময় শরিক দলগুলিকে নিয়েই ছাব্বিশের নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছিল তারা। ওই বৈঠকে অবশ্য শরিকদের দাবি নিয়ে বামফ্রন্টের সবচেয়ে বড় শরিক সিপিএম কোনও মন্তব্য করেনি।

ছাব্বিশের নির্বাচনে আবার বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনার জন্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর একবার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু, সেই বৈঠকের ফলাফল কী হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবার প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এখনও জোট নিয়ে উৎসাহ দেখাননি। বরং তিনি মন্তব্য করেছিলেন, তাঁদের কর্মী সমর্থকরা চাইছেন কংগ্রেস ২৯৪টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
আরও পড়ুনঃ নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের! শীতের শুরুতেও সবজির দামে হিমশিম বাঙালির
এই পরিস্থিতিতে গতকাল বামফ্রন্টের বৈঠকে কংগ্রেস ও আইএসএফ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। বরং বৃহত্তর বাম ঐক্য নিয়ে আলোচনা হয়। বাম ঐক্য হলে সেক্ষেত্রে লিবারেশন ও এসইউসিআইয়ের জন্যও ভোটে আসনও ছাড়া হবে বামফ্রন্টের তরফে। তবে এসইউসিআইয়ের পক্ষে এখনও কিছু বলা হয়নি এই বৃহত্তর বাম ঐক্যের বিষয়ে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১০ ডিসেম্বর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাম নেতারা। আর সেই বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদেই ১০ তারিখ বিক্ষোভ সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সিপিআইএমের বাংলা বাঁচাও যাত্রা। সেই কর্মসূচিতে বাম শরিক দলগুলির নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে সূত্রে খবর।









