বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক:
ক্রিটেশাস যুগের সবচেয়ে হিংস্র ও শীর্ষস্থানীয় শিকারি ডাইনোসর টির্যানোসরাস রেক্স (Tyrannosaurus Rex বা T-Rex)। তাদের জীবাশ্মের অভাব না থাকলেও, এতকাল প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স কীভাবে চলাফেরা করত বা হাঁটত, তা নিয়ে জীবাশ্মবিদদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সম্প্রতি এই প্রথম একটি প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের স্পষ্ট চলাচলের পথ বা ‘ট্র্যাকওয়ে’ (Trackway) আবিষ্কৃত হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটিয়ে দিল।
গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা জার্নাল অফ ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজি-তে এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভাবা যায়; সচিনের বন্ধু, ভারতীয় দলের তারকা বিনোদ কাম্বলির শেষমেশ ঠাঁই হল বৃদ্ধাশ্রমে!
আবিষ্কারের পটভূমি ও গবেষক
আমেরিকার উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘হেল ক্রিক ফর্মেশন’ (Hell Creek Formation) অঞ্চলে এই বিরল পায়ের ছাপগুলি পাওয়া গেছে।
-
আবিষ্কারক: কলোরাডোর হাই স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক এবং ‘ডেনভার মিউজিয়াম অফ নেচার অ্যান্ড সায়েন্স’-এর গবেষক কেন্ট হাপস (Kent Haps)। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি প্রথম এই জীবাশ্মের অস্তিত্ব পান।
-
সহ-গবেষক: মিউজিয়ামের কিউরেটর টাইলার লাইসন (Tyler Lyson)।
পায়ের ছাপের বৈশিষ্ট্য ও গতিবেগ
এর আগে ১৯৯৮ (নিউ মেক্সিকো) এবং ২০০৮ সালে (মন্টানা) প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের দুটি মাত্র বিচ্ছিন্ন পায়ের ছাপ মিলেছিল। তবে এবারই প্রথম পরপর চারটি সম্পর্কিত পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে।
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য ও বিবরণ |
| ব্যপ্তি ও সংখ্যা | ২৩ ফুট এলাকা জুড়ে মোট ৪টি পায়ের ছাপ সুসংগঠিতভাবে বিস্তৃত। |
| ছাপের পরিমাপ | প্রতিটি ছাপ প্রায় ৩ ফুট লম্বা এবং ২.৬ ফুট চওড়া। |
| গঠনশৈলী | প্রতিটি ছাপের সামনের দিকে তিনটি সরু আঙুল নির্দেশিত, যার মধ্যে মাঝের আঙুলটি সবচেয়ে লম্বা (মাংসাশী শিকারির বৈশিষ্ট্য)। |
| আনুমানিক বয়স | আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ বছর পুরোনো। |
| হাঁটার গতি | গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ডাইনোসরটি ঘণ্টায় ৫.৬ থেকে ৭ কিলোমিটার গতিতে হাঁটছিল। |
আরও পড়ুনঃ সিপিএম নিয়ে তাঁর ছুতমার্গ নেই; বুদ্ধ-মমতাকে মিলিয়ে দিল শ্রীরামপুর
বিজ্ঞানীমহলের পর্যবেক্ষণ
ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের বিশিষ্ট জীবাশ্মবিদ টমাস হোল্টজ জুনিয়র (Thomas Holtz Jr.) জানান, এটিই যে টি-রেক্সের সর্বোচ্চ গতি ছিল—এমনটি ভাবা ভুল হবে। কারণ এই ছাপগুলি সম্ভবত নরম ও ভেজা মাটিতে তৈরি হয়েছিল। পিচ্ছিল বা ভেজা মাটির চেয়ে সমতল শক্ত মাটিতে এই শিকারি প্রাণী আরও অনেক দ্রুতগতিতে ছুটতে পারত।
লাতিন ভাষায় ‘রেক্স’ শব্দের অর্থ ‘রাজা’। সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া এই শীর্ষ শিকারির চলাচলের এই নতুন সন্ধান গবেষকদের কাছে যেন একটি ‘টাইম মেশিন’, যা তাদের আচরণ ও চালচলন বুঝতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।


