যুবভারতীকাণ্ডের জেরে ‘নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে’ রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতির ইচ্ছেপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ্যে আসে। যেই চিঠিতে একাধিক বানান ভুল নজরে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ চুটিয়ে করুন প্রেম, উজার করে দিন ভালবাসা; OYO-তে কাপলদের স্বস্তি
মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দিদি’ বলে সম্মোধন করে লেখা চিঠিতে অরূপ নিজের পদের বানানটাই ভুল করে বসে আছেন। ‘ক্রীড়ামন্ত্রী’ কে ‘ক্রিয়ামন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অরূপ। শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর মাত্র ১২ লাইনের ছোট্ট চিঠিতে ‘ক্রীড়াঙ্গনে’ লিখতে গিয়ে ‘ক্রিয়াঞ্জনে’ লিখেছেন মন্ত্রী। ‘পরিপ্রেক্ষিতে’ হয়ে গিয়েছে ‘পরিপেক্ষিতে’। ‘অব্যাহতি’ হয়ে গিয়েছে ‘অবাহতি’।
রাজ্য মন্ত্রীসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হঠাৎ এভাবে ভুল বানানে হাতে লেখা চিঠিতে কেন পদত্যাগের ইচ্ছেপ্রকাশ করতে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অরূপ বিশ্বাসের লেখা চিঠিটি পোস্ট করেছেন।

কুণাল প্রথমে জানিয়েছিলেন, সূত্র মারফত তিনি জেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। যদিও কিছুক্ষণ পরে তিনি জানান, তাঁর বুঝতে ভুল হয়েছিল। অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগের ইচ্ছেপ্রকাশ করলেও মুখ্যমন্ত্রী এনিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
আরও পড়ুনঃ বাঙালির শস্যসংস্কৃতি, প্রকৃতিপূজা ও জীবনদর্শনের এক অনন্য প্রকাশ; ইতু পূজা
উল্লেখ্য, গত শনিবার যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাকে মাত্র ২২ মিনিট থেকেই ফিরে যেতে হয়। দর্শকরা বহু টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মেসিকে কয়েক সেকেন্ডও দেখতে পারেননি বলে অভিযোগ। মেসিকে ঘিরে যে ভিড়টা ছিল, তার মধ্যমণি ছিলেন অরূপ বিশ্বাস নিজে। এছাড়া শাসকদলের কেষ্টবিষ্টু ও নিরাপত্তারক্ষীরাও ছিলেন। মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় দর্শকদের ক্ষোভ মূলত গিয়ে পড়ে অরূপ বিশ্বাসের উপর। একাধিক ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে অরূপ বিশ্বাস কার্যত হামলে পড়ছেন মেসির গায়ের উপরে। যা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। গোটা ঘটনা নিয়ে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। দেশে বিদেশে মুখ পোড়ে কলকাতার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয় মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার কথা। যার জেরে চাপে পড়ে যায় রাজ্য প্রশাসন।
শেষ পর্যন্ত, অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থার কর্ণধার শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কমিটির সুপারিশ মেনে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক রাজীব কুমার সহ একাধিক পুলিশকর্তাকে শোকজ ও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগের ইচ্ছেতে সায় দেন কিনা সেটাই এখন দেখার।









