আজ রাত পোহালে কাল সরস্বতী পুজো। প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত কুমোরটুলি। তবে এবার সাবেকি বা থিমের প্রতিমা নয়, ‘কিউট’ সরস্বতী প্রতিমার চাহিদা তুঙ্গে। সেই চাহিদার জোগান দিতে কোনও খামতি রাখছেন না শিল্পীরা।
আরও পড়ুনঃ বিভ্রাট আর বিভ্রাট, আধুনিক হচ্ছে তিলত্তমা! নাজেহাল যাত্রীরা, প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে কলকাতা
বড় বড় চোখ, নরম মুখের আদল, এক্কেবারে যেন ছোটবেলার সেই পুতুল। এবার সরস্বতী পুজোয় প্রতিমার এটাই নতুন ট্রেন্ড। প্রযুক্তি আর কৃত্রিম মেধার যুগে তাল মিলিয়ে বদলে গিয়েছে বাগদেবীর মূর্তিও।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন নতুন ট্রেন্ড এই ‘কিউট সরস্বতী‘। আর তাতেই গা ভাসিয়েছেন ৮ থেকে ৮০। পটুয়াপাড়ায় তাই এই ‘কিউট‘ সরস্বতীর চাহিদা তুঙ্গে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বাস্তব জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে Artificial Intelligence. সেই AI দিয়ে তৈরি শিশুসুলভ, অনাবিল হাসিমুখের সরস্বতী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সরস্বতী পুজো মূলত ছোটদের উৎসব। দেবীকে ছোটদের সঙ্গে একাত্ম করে তুলতেই চেহারায় এমন পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ মাথা থেকে ভুত নামছে! শুল্ক নিয়ে পিছু হটলেন ট্রাম্প
আর ডিজিটাল জগৎ ছাড়িয়ে বাস্তবের মাটিতে আগমন ঘটেছে AI-এর সেই সৃষ্টি। শিশুসুলভ ‘কিউট’ সরস্বতী ঠাকুর গড়ে দিতে হবে বলে বায়না জুড়েছেন ক্রেতারা। আর তাঁদের চাহিদা মতো কল্পনাকে মাটির প্রতিমায় ফুটিয়ে তুলছেন কুমোরপাড়ার শিল্পীরা। ‘কিউট’ সরস্বতীর চাহিদা এতটাই যে দম ফেলার ফুরসত নেই শিল্পীদের। পরিশ্রম বেশি বলে দামও বেশি রাখতে হচ্ছে মূর্তির। বেশি দাম দিয়েই ‘কিউট’ সরস্বতীর মূর্তি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ।
কুমোরটুলির এক শিল্পী বলেন, “চাহিদা আছে, খুব চাহিদা আছে। আরও চাইছে। আমার কাছ থেকে অন্তত ২০ জন ক্রেতা ফিরে গিয়েছেন। বলছেন, টাকা দিচ্ছি, ৫০০ টাকা বেশি দিচ্ছি। কিন্তু ওটা দিন।” আর এক শিল্পী বলেন, “যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে AI চলছে। পুতুলের মতো দেখতে ‘কিউট’ সরস্বতীর চাহিদা খুব বেড়েছে ইদানীং। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা ‘কিউট’ সরস্বতীই বেশি পছন্দ করছেন।” ভক্তি-রীতি-সাবেকিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার এই মিশেলে তাই ‘কিউট’ প্রতিমা এবার সরস্বতী পুজোর বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এবারে ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো, নেতাজির জন্মদিনেই। সেই উপলক্ষে প্রস্তুতি তুঙ্গে সর্বত্র। বিদ্যার দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ছোট থেকে বড়, সকলেই। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, পঞ্চমী তিথি শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার রাত ২টো বেজে ৩০ মিনিট থেকে। শুক্রবার রাত ১টা বেজে ৪৭ মিনিটে শেষ হবে তিথি।
আবার গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী, পঞ্চমী তিথি শুরু বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে। শেষ হবে শুক্রবার রাত ১২টা বেজে ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ডে।









