spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeদক্ষিণবঙ্গArambagh: ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে; ২০১৬-য় নবম, এ বার ইন্টারভিউ থেকেই বাদ সেই...

Arambagh: ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে; ২০১৬-য় নবম, এ বার ইন্টারভিউ থেকেই বাদ সেই আরামবাগের রেহানা

এক রকম নিশ্চিন্তেই ছিলেন আরামবাগের রেহানা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রেহানা বেগমের দুই সন্তান, দু’জনেই মেয়ে। একজন সবে ক্লাস ওয়ানে উঠেছে, অন্যজন হামাগুড়ি দেয়। রেহানা তৃতীয় বারের জন্য মা হতে চলেছেন। তাঁর স্বামীর একটা ছোটখাটো মোবাইল সারাইয়ের দোকান আছে। রেহানা স্কুল–শিক্ষিকা। সেই বেতনেরই ভরসায় ১৫ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন ব্যাঙ্ক থেকে। এর কিছুটা খরচ করেছেন স্বামীর দোকান তৈরিতে। আর জমি বিক্রি করে তাঁকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন বলে বাকিটা দিয়েছেন বাবাকে। তবু দু’জনের আয়ে তিন সন্তানকে লালনপালন করে সংসার মোটের উপর ভালো ভাবে চলছিল। এক রকম নিশ্চিন্তেই ছিলেন আরামবাগের রেহানা।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে অস্থিরতা শুরু, চড়ছে ভারতবিরোধী সুর; চিকেন নেক পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

সেই তালিকায় ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি স্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষিকা রেহানাও। অথচ ২০১৬–র পরীক্ষায় সংস্কৃত বিষয়ে রাজ্যে নবম হয়েছিলেন তিনি। কোর্টের রায়ে চাকরি খুইয়ে নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণে এসএসসি–র পরীক্ষাও দেন এ বার। ছিল ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়ার অপেক্ষা। এ বারের দৃশ্যটা কিন্তু আগের মতো সুখকর হলো না। কাট অফ মার্কস না থাকায় ইন্টারভিউয়ে ডাক পাননি রেহানা, ফলে চাকরির কোনও আশা কার্যত নেই তাঁর। এ দিকে নবম-দশমে সংস্কৃত পড়ানো হয় না বলে ওই পরীক্ষায় বসতে পারেননি রেহানা। দিশাহারা রেহানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দু’টি পৃথক মামলার খেসারত দিতে হচ্ছে তাঁকে। একদিকে নিয়োগ দুর্নীতির জেরে ‘যোগ্য’-‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা যায়নি বলে তিনি চাকরি হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের মুখরক্ষা না হওয়ায় এখন তিনি ‘ওবিসি–এ’ থেকে ‘ওবিসি–বি’ ক্যাটিগরিতে চলে গিয়েছেন। ‘ওবিসি–এ’তে কাট অফ মার্কস ৬১। এ বারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ওই নম্বরটাই পেয়েছেন রেহানা। কিন্তু ‘ওবিসি–বি’তে কাট অফ ৬৩। তাই, মাত্র দু’নম্বরের ফারাকে ইন্টারভিউয়ের ডাক পাননি তিনি। বলছেন, ‘আগের মতো ওবিসি এ-তে থাকলে অন্তত ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছতাম।এখন মাত্র দু’নম্বরের জন্য সেটাও হলো না। ঋণের জন্য মাসে ৩৫ হাজার টাকা ইএমআই দিতে হয়, আরও দু’বছর সেটা চলবে। কোথা থেকে কী করব, বুঝতেই পারছি না।’ ইন্টারভিউয়ে ডাক না পেয়ে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি, কিন্তু ব্যাঙ্ক রেহানার কথা শুনবে কেন!

আরও পড়ুনঃ আজ অগ্রহায়ণের অমাবস্যা, যা মার্গশীর্ষ অমাবস্যা নামেও পরিচিত, মায়ের পুজোর দিন

কোনও অন্যায় না করেও পথে বসেছেন তিনি। ক্ষুব্ধ, হতাশ তরুণীর বক্তব্য, ‘নিয়োগ দুর্নীতিতে আমার হাত ছিল না, ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টিও কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে ঠিক করেনি। অথচ দেখুন, কী ভাবে এই দুই মামলার জন্য আমার চাকরিটা চলে গেল! যাঁরা উপরতলায় বসে থাকেন, তাঁরা বিচার করেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের উপরে এর কী প্রভাব পড়বে, সেটা ভেবে কি ওঁরা যা করার করেন?’ রেহানার চাকরিহারা সতীর্থদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের অপরিণামদর্শিতাই দায়ী, যার জেরে ভুগছেন তাঁরা।

২০১৬–র এসএসসি পরীক্ষায় নাইনথ হয়েও এ বার ন্যূনতম কাট অফে পৌঁছতে পারলেন না কেন? ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে ফুটপাথে বসে রেহানা বলেন, ‘প্রায় দশ বছর কেটে গিয়েছে। যখন নবম হয়েছিলাম, তখন আমার কত অল্প বয়স। এখন বিয়ে হয়েছে, দুই মেয়ে। সংসার আর স্কুলের কাজ সামলাতে গিয়ে পড়াশোনাটা করতে পারলাম কোথায়? উপরন্তু মাথায় (চাকরি হারানোর) এই বোঝা!’

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন