বিশেষ সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি, কলকাতা:
উত্তর কলকাতার মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র কুমারটুলির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘কুমারটুলি পার্ক সার্বজনীন’। প্রতি বছরই মৌলিক ও অর্থবহ শিল্পভাবনায় দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেওয়া এই নামী পুজো কমিটি ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় নিয়ে আসছে এক অনন্য থিম—‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গা’।
সনাতন ভারতীয় সংস্কৃতিতে গঙ্গা কেবল পবিত্র এক জলধারা নয়; বরং তা জীবন্ত চেতনা, মানবসভ্যতা ও মুক্তির চিরন্তন প্রতীক। নদীটির হিমালয়ের গঙ্গোত্রী থেকে উৎপত্তি, পাহাড়ের পথ পেরিয়ে সমতলে আগমন এবং সাগরে মিলনের সুদীর্ঘ গতিপথকেই মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জার মূল উপজীব্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সুরের মূর্ছনায় বুঁদ আসমুদ্রহিমাচল, ‘নাইটিঙ্গল’কে জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ
মণ্ডপভাবনা ও পরিবেশ
-
নদীর প্রাকৃতিক সফর: বরফাবৃত হিমালয়ের নির্জনতা থেকে সমতলের জনপদ—গঙ্গার এই পুরো জীবনযাত্রাকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে স্থানটির আবহ ও শিল্পরীতির মাধ্যমে।
-
আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক আবহ: মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা পাহাড়ি নদীর হিমশীতল পরিবেশ ও প্রবহমানতার অনুভূতি পাবেন। আলো, শব্দ ও আবহ সংগীতের নিখুঁত সমন্বয়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।
-
সভ্যতার গল্পকথা: কীভাবে একটি নদী যুগ যুগ ধরে জনপদ গড়ে তুলেছে এবং মানুষকে জীবন জুগিয়েছে, তা শিল্পকলার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জোটে জট; জোট বাঁধন তৈরি হবে কি, তার আগেই ভাঙন! বৈঠকে থাকবেন না অখিলেশ; ‘হাত’ ছাড়ছে শরিকরা
এক নজরে কুমারটুলি পার্কের আয়োজন
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| পুজো কমিটি | কুমারটুলি পার্ক সার্বজনীন (উত্তর কলকাতা) |
| ২০২৬ সালের থিম | ‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গা’ |
| মূল আকর্ষণ | গঙ্গার উৎপত্তি থেকে সাগরে মিলন পর্যন্ত সুদীর্ঘ যাত্রার শৈল্পিক উপস্থাপন |
| প্রস্তুতির স্থিতি | মহালয়ার আগেই কাজ শেষ করতে জোরকদমে চলছে মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ |
ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সাথে আধুনিক রূপকল্পের এই মেলবন্ধন আসন্ন পুজোয় দর্শনার্থীদের প্যান্ডেল হপিং তালিকায় অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।


