২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্বাচনেও উঠল গেরুয়া ঝড়। কলকাতা হাইকোর্ট ক্লাবের নির্বাচনে বিজেপি লিগ্যাল সেল সমর্থিত ‘ন্যাশনালিস্ট প্যানেল’-এর জয় নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার ঢেউ উঠেছে।
সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ন্যাশনালিস্ট প্যানেলের ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। হাইকোর্টের অভ্যন্তরে আইনজীবীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচার ছিল উত্তপ্ত। আর তার মধ্যেই বিজেপি সমর্থিত আইনজীবীদের এই বড় জয়কে রাজনৈতিক মহল তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছে।
আরও পড়ুনঃ ২০২৬-এ নন্দীগ্রাম থেকে লড়বেন? বড় ইঙ্গিত অভিষেকের
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিজয়ী আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে দাবি করেছেন এটি ন্যায়বিচারের পক্ষে, পেশাদারিত্বের পক্ষে এবং “ন্যাশনালিজম”-এর পক্ষে মানুষের স্পষ্ট বার্তা। বিজয়ী পদাধিকারীরা হলেন প্রেসিডেন্ট কল্লোল মণ্ডল, ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিন্দ্য বসু, জেনারেল সেক্রেটারি অরুণ কুমার উপাধ্যায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মধু জানা, ট্রেজারার বিজিতেশ মুখার্জি এবং কমিটি মেম্বার ঐশ্বর্য রাজ্যশ্রী, পূজা সোনকর।
ফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় লেখেন “বিজেপি লিগ্যাল সেল সমর্থিত ন্যাশনালিস্ট প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই তাঁদের এই বিরাট জয়ের জন্য ” তিনি বলেন, এই ফল শুধু ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং আইনজীবী সমাজের মধ্যে সততা, দক্ষতা এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বক্তব্য, “এই রায় আইনজীবীদের এক বৃহৎ অংশের বিশ্বাসকে তুলে ধরে, যারা একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নেতৃত্ব দেখতে চান।”

আইনজীবীদের একাংশও মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আদালত ও প্রশাসনিক স্তরে যেভাবে বিতর্ক বাড়ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন প্রভাব ফেলতে পারে। ক্লাব নির্বাচনের ফল যদিও সরাসরি আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে না, কিন্তু আইনজীবী সমাজের মনোভাব কোন দিকে যাচ্ছে সেটির ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
আরও পড়ুনঃ আজ শীতের আবহে কতটা নামবে উষ্ণতার পারদ
ন্যাশনালিস্ট প্যানেলের এক বিজয়ী সদস্য বলেন, “আমরা শুধু রাজনীতি নয়, আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা, সদস্যদের সেবা বাড়ানো এবং ক্লাবের পেশাদার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই লড়াই করেছি। সদস্যরা আমাদের প্রতি যে বিশ্বাস রেখেছেন, তা বজায় রাখার চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে মনস্তাত্ত্বিকভাবে বিজেপির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ হাইকোর্টের আইনজীবী সমাজ সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং বুদ্ধিজীবী মহলের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে বিজেপি-সমর্থিত প্যানেলের জয় দলীয় নেতৃত্বকে উজ্জীবিত করবেই।
তৃণমূলের এক আইনজীবী নেতা অবশ্য দাবি করেছেন, “এটি পুরোপুরি একটি পেশাদার নির্বাচন। রাজনৈতিক দল এতে অযথা বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।” তবুও সত্য এটাই কলকাতা হাইকোর্ট ক্লাবের নির্বাচনী ফল রাজ্যের রাজনৈতিক কথোপকথনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজয়ীদের মুখে আত্মবিশ্বাস, বিরোধীদের মুখে চিন্তা আর শুভেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত।









