ইরান যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিনিদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অত্যন্ত সফল’। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালীর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান তেল সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প পরিষ্কার করে বলেন যে আমেরিকাকে আর বিদেশি তেলের উপর নির্ভর করতে হবে না এবং অন্যান্য দেশগুলির উচিত তাদের নিজস্ব জ্বালানি চাহিদার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
আরও পড়ুনঃ ইরানের টার্গেট এবার Amazon; বন্ধ হতে পারে গুগল
হরমুজ প্রণালীর কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, আমেরিকা আর এই বিষয়ে দায়িত্ব নেবে না, অন্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, ইরান এই জলপথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলিতে হামলা চালানোর হুমকি দিচ্ছে। এর জেরে এই প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় থমকে গিয়েছে। এর জেরে বিশ্ব তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই আবহে নিজের ভাষণে ট্রাম্প সেই সব মিত্র দেশগুলিকেও তোপ দেগেছে যারা ইরান যুদ্ধে আমেরিকাকে সহায়তা করেনি। তিনি বলেন, এই ধরনের দেশগুলোকে সাহসী হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী থেকে নিজেদেরই তেল সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে এসব দেশ আমেরিকান তেলও কিনতে পারে বলে ‘পরামর্শ’ দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বেলা বাড়লেই ‘খেলা হবে’ গরমের; বাড়বে তাপমাত্রা
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী আটকে রাখা সহজ। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাথমিক ভাবে ১০ মার্চ পর্যন্ত ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ১১ মার্চ কার্গো জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় ইরান। গভীর রাতে অন্তত ৫-৬টি জাহাজে হামলা চালায় তারা। এখন শুধুমাত্র ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক এবং পাকিস্তানের জাহাজকেই হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে দিচ্ছে ইরান।



