শনিবারের বাজারে স্বস্তির খবর নিয়ে এল শীতকালীন সবজির সরবরাহ। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং স্থিতিশীল। শীতের মরশুমে ক্ষেত থেকে প্রচুর সবজি আসায় বাজারে তার প্রভাব স্পষ্ট। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। বহু বাজারেই কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকার নিচে মিলছে অধিকাংশ সবজি, যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
আরও পড়ুনঃ মাথায় হাত পুলিশের! বহরমপুরে নাটকীয় পরিস্থিতি, কড়া নজরদারি এড়িয়ে পালাল বাংলাদেশি বন্দি
সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে পেঁয়াজ ও আলুর দামে। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৫-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এই দাম আরও কম, ২০-২৪ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আলুর বাজারও এখন স্থিতিশীল। জ্যোতি ও চন্দ্রমুখী আলু প্রকারভেদে ১৪-১৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনের রান্নায় এই দুই উপকরণ অপরিহার্য হওয়ায় ক্রেতাদের জন্য এই দাম বড় স্বস্তির খবর।
টমেটোর দামও এখন হাতের নাগালে। বেশিরভাগ বাজারে টমেটো ১৫-২২ টাকা কেজি দরে মিলছে। তবে উন্নত মানের বা বাছাই করা টমেটোর দাম কিছুটা বেশি, প্রায় ৬৫ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠছে। তবুও সাধারণ মানের টমেটো সস্তায় পাওয়ায় রান্নাঘরের খরচ কমছে বলেই মনে করছেন গৃহিণীরা।
শীতের বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাহিদা থাকে সবসময়। এ বছর সরবরাহ বেশি হওয়ায় এই দুই সবজির দামও কমেছে। ফুলকপি পিস বা কেজি হিসেবে ১৪ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বাঁধাকপির দামও প্রায় একই রকম। ফলে হোটেল থেকে বাড়ির রান্না সব জায়গাতেই এই সবজির ব্যবহার বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ জঙ্গলের রাজত্ব, ইউনুসের বাংলাদেশ আজ বাংলা-দ্বেশ; নির্বাচনের আগেই রণক্ষেত্র ঢাকা
বেগুন ও অন্যান্য সবজির দামও মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে। বেগুনের গড় পাইকারি দর কেজি প্রতি প্রায় ২৮-৩০ টাকার মধ্যে। কুমড়ো মিলছে কেজি প্রতি ১০ টাকার মতো কম দামে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি স্বস্তি। কাঁকরোলের দাম তুলনামূলক একটু বেশি, প্রায় ৪০ টাকার আশেপাশে। তবে রসুন ও আদার বাজার এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। দেশি রসুনের দাম কেজি প্রতি ৪৫-৬১ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। আদার দামও কিছুটা বেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, এই দুই পণ্যের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম এখনও নিচে নামেনি।
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামের কিছু পার্থক্য থাকছে। কলকাতার বড় পাইকারি মান্ডি বা কারওয়ান বাজারে খুচরা বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা কম। সেখান থেকে ব্যবসায়ীরা সবজি কিনে বিভিন্ন পাড়ার বাজারে নিয়ে আসেন। ফলে পরিবহন খরচ ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের মতে, শীতের শেষ পর্যন্ত সবজির দাম মোটামুটি এই রকমই স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এখনও ক্ষেত থেকে নিয়মিত সবজি আসছে। তবে আবহাওয়ার কোনো বড় পরিবর্তন বা সরবরাহে সমস্যা হলে দামে ওঠানামা হতে পারে।









