হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে জাতিসংঘে ভেটো—রাশিয়া ও চীনের পদক্ষেপে থমকালো প্রস্তাব।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবিতে আনা একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আটকে গেল। প্রস্তাবটি দিয়েছিল Bahrain, কিন্তু Russia ও China তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে সেটি বাতিল করে দেয়।
এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়।
তবে রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত একতরফা হতে পারে এবং এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে ঐকমত্য না থাকায় হরমুজ সংকট সমাধান আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার প্রস্তাব
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন চরমে, সেই আবহেই হরমুজ নিয়ে বৈঠকে বসেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। পুনরায় হরমুজ প্রণালী খোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। এর আগে, হরমুজ খোলার জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলি। সেসব ধরে, কিছু কাটছাঁট করেই প্রস্তাবটি পেশ করে বাহরাইন। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, হরমুজ দিয়ে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হোক, যাতে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে জাহাজ বের করে আনা যায়। ওই প্রস্তাবে সমর্থন ছিল আমেরিকার।
ভোটাভুটিতে কী হল?
এদিন সেই নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হলে, প্রস্তাবটির সমর্থনে ভোট পড়ে ১১টি। অর্থাৎ ১১টি সদস্য দেশ হরমুজ খোলার সপক্ষে ভোট দেয়। দুই দেশ হরমুজ খোলার বিরোধিতা করে, চিন এবং রাশিয়া। ভোটদান থেকে বিরত থাকে দু’টি দেশ।রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, বলপূর্বক হরমুজ খোলার পক্ষে ভোট দিয়েছে বাহরাইন, কঙ্গো, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, লাটভিয়া, লিবারিয়া, পানামা, সোমালিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা। ভেটো দিয়েছে চিন ও রাশিয়া। ভোটদান থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে কলম্বিয়া ও পাকিস্তান। বাহরাইনের বিদেশমন্ত্রী আব্দুল্লাতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলি এই প্রত্যাখ্যানে ব্যাথিত। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই ভোটাভুটির আয়োজন হয়, যাতে হরমুজ দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা যায়।
আরও পড়ুনঃ ভোট অঙ্কে বিরাট পরিবর্তন! বঙ্গের সরকার নির্ধারিত হবে ১০০ আসনেই
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য কারা?
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশ, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। স্থায়ী দেশগুলির মধ্যে যে কেউ ভেটো দিলেই প্রস্তাব আটকে যেতে পারে। পাকিস্তান স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বর্তমানে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভোটদানে অংশ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দু’বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্যতা পেয়েছে তারা।



