রাজ্য বাজেটে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়া ছুটির নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। আগামী ৬ জুলাই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্যে পূর্ণ দিবস ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ১ জুলাই বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিনে অর্ধদিবস ছুটির বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে নবান্ন। রাজ্য বাজেটে এই জোড়া ছুটির কথা প্রথম ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার সেই মর্মে সরকারি নির্দেশিকাও জারি হয়ে গেল।
আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞার জেরে সংকটে রাজ্যের বেকারি শিল্প, দাম বাড়বে পাউরুটির
রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং ইতিহাসকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে। তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৬ জুলাই (সোমবার) রাজ্যে সরকারিভাবে পূর্ণ দিবস ছুটি থাকছে। শুধু ছুটিই নয়, তাঁর স্মরণে বেশ কিছু বড় প্রকল্পও হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ শ্যামাপ্রসাদের ১২এস স্মরণে একটি ১২৫ ফুট উঁচু বিশালাকার মূর্তি স্থাপন করা হবে। ৬ জুলাই এই মূর্তির আনুষ্ঠানিক ভূমিপুজো হওয়ার কথা রয়েছে।
হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িটি সংস্কার করা হবে। তাঁর নামাঙ্কিত একটি আধুনিক গ্রন্থাগার এবং পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১ জুলাই ড. বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিনটি গোটা রাজ্যে ‘চিকিৎসক দিবস’ বা ডক্টরস ডে হিসেবে পালিত হয়। এই দিনটিকে সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে অর্ধদিবস বা হাফ-ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ জুলাই দুপুর ২টোর পর থেকে সমস্ত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকবে।
তবে, কলকাতার রেজিস্ট্রার অব অ্যাসিওরেন্সেস এবং কালেক্টর অফ স্ট্যাম্প রেভিনিউ অফিসকে এই অর্ধদিবস ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঝড়-জল হলেও পাঁচ জন কর্মী নিয়েই একুশে জুলাই হবে’, জানিয়ে দিলেন মমতা
রাজ্য সরকারের জারি করা ওই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ২৫ নম্বর ধারা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি মেনেই রাজ্যপাল এই দুটি ছুটির অনুমোদন দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই দিনটি চিকিৎসক দিবস হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাও বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে মাল্যদানের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নিখরচায় স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। এবার সরকারিভাবে অর্ধদিবস ছুটি পাওয়ায় সেই উদ্যাপন আরও প্রসারিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


