বড়দিনের আগে স্বস্তির হাওয়া শহর ও গ্রাম দুই বাজারেই। দীর্ঘদিন ধরে লাগামছাড়া সবজির দামে অবশেষে কিছুটা রেহাই পেলেন সাধারণ মানুষ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন খুচরো বাজারে একাধিক সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উৎসবের মরশুমে সংসারের খরচ সামলাতে এই দাম কমা নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
আরও পড়ুনঃ বড়দিনের আগে কেমন থাকবে বঙ্গের আবহাওয়া
বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। বড় পেঁয়াজ এখন কেজি প্রতি ২৭ টাকায় বিকোচ্ছে, যেখানে কিছুদিন আগেও দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। ছোট পেঁয়াজের দামও নেমেছে ৪৯ টাকায়। আলু বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ২৯ টাকায়, যা উৎসবের আগে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম।
টম্যাটোর দামও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে টম্যাটো কেজি প্রতি ৩৮ টাকায় মিলছে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ৪৫-৬০ টাকার ঘরে ছিল। সবুজ লঙ্কার দাম ৪১ টাকায় নামায় রান্নাঘরের খরচে কিছুটা হলেও সাশ্রয় হচ্ছে। বিট, বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর এই শীতের জনপ্রিয় সবজিগুলোর দামও ৩০ থেকে ৪২ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।
শীতের মরশুমে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হওয়ায় শাকসবজির বাজারেও দাম কমেছে। লাল শাক (আমারান্থ), ধনে পাতা, সুঁই শাক, কারি পাতা সবই ১৪ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা কলা কেজি মাত্র ১০ টাকা, যা নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বড় স্বস্তির খবর।
ফলমূলের দিকেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। আমলকির দাম ৭৫ টাকায় নেমেছে, যা আগের তুলনায় বেশ কম। শশা, লাউ, কুমড়ো, কলার মোচা, ওল সব মিলিয়ে নিরামিষ রান্নার জন্য বাজার এখন বেশ অনুকূল। তবে সবজির বাজারে এখনও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। সজনে ডাঁটার দাম আকাশছোঁয়া কেজি প্রতি ১৫০ টাকা। নারকেলও ৭০ টাকার নীচে নামেনি। ক্যাপসিকাম, বরবটি, সিমের মতো কিছু সবজির দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকলেও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা অনেকটাই কম।
আরও পড়ুনঃ ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে রাশিয়ার উদ্বেগ, ঢাকাকে সতর্ক করল মস্কো
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরবরাহ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের কৃষিজ এলাকা থেকে নিয়মিত সবজি আসছে পাইকারি বাজারে। তার জেরেই খুচরো বাজারে দাম কমেছে। বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগে এই ধারা বজায় থাকলে আরও কিছু সবজির দাম কমতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের মতে, “অনেকদিন পর বাজারে গিয়ে স্বস্তি লাগছে। আগে ৫০০ টাকায় যা পাওয়া যেত না, এখন তাতেই বেশ কয়েকদিনের সবজি হয়ে যাচ্ছে।” ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, চাহিদা বাড়লেও জোগান ভাল থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। সব মিলিয়ে বড়দিনের আগে সবজির বাজারে এই দাম কমা সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর।









