শীতের ছোঁয়ায় ভিজে উঠছে বঙ্গের মাটি, কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার থেকে যেন একটা স্বস্তির নিশ্বাস পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের উপর সক্রিয় পশ্চিমী বিক্ষোভের কারণে ৯ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির ছাঁট ফুটে উঠেছিল উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে। কিন্তু ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে স্পষ্ট সতেজতা—আজ থেকে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমে যাবে।
আরও পড়ুনঃ ২৮ দিনের প্ল্যানে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে! পরের সপ্তাহে বাড়তে পারে মোবাইল রিচার্জের খরচ
উত্তর বঙ্গে মেঘলা আকাশের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, দক্ষিণ বঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ আর শুষ্ক আবহাওয়া বেশি প্রাধান্য পাবে। তাপমাত্রা ২২-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘুরবে, যা শীতের এই সময়ে একটু উষ্ণ লাগতে পারে, কিন্তু রাতে ঠান্ডা বাড়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আইএমডির কলকাতা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভটি এখন পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে, ফলে ১১ ডিসেম্বর থেকে বৃষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং ১২-১৩ ডিসেম্বর থেকে পুরোপুরি শুষ্ক আবহাওয়া নেমে আসবে।
উত্তর বঙ্গের কথা আগে বলি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে আজ দিনের বেলায় মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে। স্থানীয়ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে দুপুর-বিকেলের দিকে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুসারে, বজ্রপাতের সঙ্গে বাতাসের গতি ৩০-৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার মধ্যে থাকতে পারে, যা কিছু ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন ১৬-১৮ ডিগ্রি। হিমালয়ের কাছাকাছি এলাকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সকালে যানজট সৃষ্টি করতে পারে। চা-বাগানের শ্রমিকরা বলছেন, “গত তিনদিনের বৃষ্টিতে পাতা পড়ে গেছে, আজ অন্তত কাজকর্ম চালানো যাবে। কিন্তু ঠান্ডা বাড়লে শরীর টানবে।” আইএমডি সতর্ক করে বলেছে, বাইরে থাকলে গাছতলা বা খোলা জায়গা এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা।
আগামী দিন দুয়েকে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে শুষ্কতা নেমে আসবে, তাপমাত্রা একটু বাড়বে।দক্ষিণ বঙ্গে আবহাওয়া আরও সুস্থির। কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলির মতো জেলাগুলোতে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম—কোথাও কোথাও হালকা ছিটেফোঁটা হতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় শুষ্ক এবং আংশিক মেঘলা আকাশ।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি, সর্বনিম্ন ১৯-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কলকাতায় সকালে হালকা কুয়াশা থাকতে পারে, কিন্তু দুপুর হলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঁকি দেবে। বায়ু দূষণ মাঝারি স্তরে থাকবে, তাই বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
বাতাসের গতি স্বাভাবিক, কোনো ঝড়ের আশঙ্কা নেই। একজন কলকাতার ব্যবসায়ী বললেন, “গতকালের বৃষ্টিতে দোকানে গ্রাহক কম ছিল, আজ রোদ পড়লে বিক্রি বাড়বে। শীত এখনও পুরোপুরি আসেনি, কিন্তু রাতে কাঁপুনি শুরু হয়েছে।” মৎস্যজীবীদের জন্য বঙ্গোপসাগরে হালকা বাতাসের সতর্কতা রয়েছে, গতি ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।









