চন্দন দাস, কলকাতা:
গত ১৫-২০ দিন ধরে রাজ্যের একাধিক সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভার অলিগলি ঘুরে যা দেখলাম, তা এক কথায় চমকে দেওয়ার মতো। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই প্রায় সব রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য একটাই—সংখ্যালঘু ভোট। কেউ সেই ভোট পেতে চাইছে, কেউ বা সেই ভোট ভাঙতে মরিয়া। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—আসলেই কি এতে মানুষের জীবনে কোনও পরিবর্তন আসছে?
মাঠে নেমে একটা জিনিস পরিষ্কার—গরিব মানুষের কোনও ধর্ম নেই। হিন্দু-মুসলিম ভাগাভাগির রাজনীতি থাকলেও, বাস্তব জীবনে তারা একটাই পরিচয়ে বাঁধা—অসহায়তা।
আরও বড় পর্যবেক্ষণ—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভ প্রায় নেই বললেই চলে। অনেকেই তাঁকে ‘দেবী’র মতো দেখেন। কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্ব? সেখানেই বিস্ফোরণ। অনেক জায়গায় সরাসরি শুনেছি—“দিদি দেন, আর এরা লুটে নেয়।”
তাহলে কি বিজেপি বিকল্প?
এই প্রশ্নে বেশিরভাগ জায়গায় স্পষ্ট উত্তর নেই। বিজেপির প্রতি একটা নির্দিষ্ট আস্থা বা আবেগ চোখে পড়েনি। ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন বিজেপিকে “অপশন” হিসেবে ভাবছেন, কিন্তু ভরসা নয়।
মজার বিষয়—অনেক গরিব মানুষের মনে এখনও বামপন্থার ছাপ রয়ে গেছে। কিন্তু ভোট দিতে গেলে দ্বিধা—“ভোট দিলে যদি বিজেপি জিতে যায়?” তাই অনেকেই বলছেন—“তার থেকে তৃণমূলই ভালো!”
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—নৌসাদকে অনেকেই ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে দেখছেন। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
অন্যদিকে মহম্মদ সেলিমকে নিয়ে উৎসাহ কম। কেউ কেউ সরাসরি বলেছেন—“আর কেউ ছিল না?” বরং সুজন চক্রবর্তীর নাম তুলেছেন অনেকে।
একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট—বাংলার একাংশের হিন্দু ভোটারদের কাছে বিজেপি নিজেদের ‘হিন্দুদের দল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।
আমাদের ২৭ ফেব্রুয়ারির অপিনিয়ন পোলেও এই প্রবণতার ইঙ্গিত ছিল—
তৃণমূল: ১৯৫-২০৪
বিজেপি: ৭৭-৮২
কংগ্রেস: ৪-৬
আইএসএফ: ১
তবে এখনকার গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে—
আইএসএফ ৩টি আসন জিততে পারে
আরও ২টি আসনে দ্বিতীয় হতে পারে
বামেদের ভোট বাড়বে, ৬-৭টি আসনে দ্বিতীয় হওয়ার সম্ভাবনা,
কিন্তু জয়ের সম্ভাবনা এখনও খুব কম
আমার মনে হয়েছে এই নির্বাচন শুধু সংখ্যার খেলা নয়, এটা ভয়, ভরসা আর বাস্তবতার লড়াই। তবে মানুষ বড্ড চুপচাপ!
কি হবে শেষ পর্যন্ত?
উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলার অলিগলির মানুষের মনেই।



