১৫ ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬, আগামীকাল মহা শিবরাত্রি। বর্তমানে পুরুষ এবং মহিলা সকলেই শিবরাত্রির উপবাস করে থাকি। আমরা বেশিরভাগ মানুষই, উপবাস বলতে বুঝি সারাদিন কিছু না খেয়ে ব্রতটি উৎযাপন করা। উপবাস করে বেশ কয়েক ঘণ্টা থাকার পরই কিছু খেতে ইচ্ছে হয়। ক্ষিদে পেয়েছে তবুও না খেয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতেই হবে। এটাই হল আমাদের বেশিরভাগ মানুষের উপবাস। তাই এই ভুল ভাঙাতে অনেক মাহাত্ম্যগণই বলে গিয়েছেন যে, ভোজন না করলে কখনোই ভজন হয় না। প্রকৃত অর্থে উপবাস কথার অর্থ হচ্ছে, উপ = কাছে, বাস = থাকা। অর্থাৎ সেই পরমেশ্বর বলছেন যে, এই তিথি যতক্ষণ থাকছে ঠিক ততক্ষন পর্যন্ত তুমি ভক্ত হয়ে, অনন্তের পথের দিশারী হয়ে সেই পরমেশ্বরের কাছে থেকে সময়টি অতিবাহিত করে যাও। এরই নাম উপবাস। পেটে ক্ষুধা থাকলে কখনোই সাধন ভজন হতে পারে না, কারণ তখন মন থাকে কেবল ক্ষুধার দিকে। মহাশিবরাত্রি আমাদের শিবের আশ্রয় নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় – শান্তি, অনন্ত, সৌন্দর্য এবং অদ্বৈত একত্ব। তুমি শিবের আশ্রয় গ্রহণ করো কারণ তোমার প্রকৃত স্বরূপ শিব । নিজের মধ্যে শিবতত্ত্ব উদযাপন করাই মহাশিবরাত্রির সারমর্ম । আমরা আমাদের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করে, ধ্যান করে এবং শিবশক্তিতে আনন্দ করে শিবতত্ত্ব উদযাপন করি । মহাশিবরাত্রি কেবল শরীরের বিশ্রামের সময় নয়, বরং মন এবং অহংকারও। ঐতিহ্য হল জাগ্রত থাকা। শিবরাত্রি হল সমগ্র বিশ্বকে সৌন্দর্য, প্রেম এবং সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এবং দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার জন্য একটি জাগরণের আহ্বান।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও পালন বিধি
(কাশী বিশ্বনাথ ধাম ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে)
আরও পড়ুনঃ প্রশ্ন ক্রেতাদের মনের মধ্যে! ব্র্যান্ডেড ওষুধ বনাম জেনেরিক ওষুধ
ওঁ নমঃ শিবায়। আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি, আগামীকাল রবিবার পালিত হবে মহাপুণ্যলগ্নের মহাশিবরাত্রি ব্রত। ভক্তদের সুবিধার জন্য কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের সময় এবং পঞ্জিকা মিলিয়ে নির্ঘণ্ট দেওয়া হলো।
তারিখ ও তিথি:
ইংরেজি তারিখ: ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার)
বাংলা তারিখ: ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চতুর্দশী তিথি শুরু: ১৫ই ফেব্রুয়ারি, বিকেল ০৫:০৪ মিনিট
চতুর্দশী তিথি শেষ: ১৬ই ফেব্রুয়ারি, বিকেল ০৫:৩৪ মিনিট
আরও পড়ুনঃ বাংলার পিসি সরকারের গিলি গিলি ছু ম্যজিক, ছিল রুমাল হয়ে গেল বিড়াল! এবার বাঁকুড়া
চার প্রহর পূজার সময়সূচি (রাত্রি জাগরণ):
শিবরাত্রির মূল পূজা রাতে চার প্রহরে করতে হয়।
প্রথম প্রহর: সন্ধ্যা ০৫:৫২ – রাত ০৯:০২
অভিষেক: দুধ দিয়ে। (মন্ত্র: ওঁ হ্রী ঈশানায় নমঃ)
দ্বিতীয় প্রহর: রাত ০৯:০২ – রাত ১২:১২
অভিষেক: দই দিয়ে। (মন্ত্র: ওঁ হ্রী অঘোরায় নমঃ)
তৃতীয় প্রহর: রাত ১২:১২ – ভোর ০৩:২২
অভিষেক: ঘি দিয়ে। (মন্ত্র: ওঁ হ্রী বামদেবায় নমঃ)
চতুর্থ প্রহর: ভোর ০৩:২২ – সকাল ০৬:৩২
অভিষেক: মধু দিয়ে। (মন্ত্র: ওঁ হ্রী সদ্যোজাতায় নমঃ)
মহানিশি পূজা (নিশিতা কাল):
রাত ১২:০৯ থেকে রাত ০১:০১ পর্যন্ত (বিশেষ শুভ লগ্ন)
ঘরে বসে পালনের নিয়ম:
রাতে চার প্রহরে শিবলিঙ্গে জল ও নির্দিষ্ট দ্রব্য দিয়ে স্নান করান।
প্রতি প্রহরে ৩টি পাতাযুক্ত নিখুঁত বেলপাতা অর্পণ করুন।
‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন।
বৈজ্ঞানিক মাহাত্ম্য:
এই রাতে গ্রহমণ্ডলীয় অবস্থানের কারণে মানুষের শরীরে শক্তির প্রাকৃতিকভাবেই ঊর্ধ্বগতি (Upward surge of energy) ঘটে। তাই সারারাত মেরুদণ্ড সোজা করে বসে থাকলে (জাগরণ করলে) সেই শক্তি মস্তিষ্কের দিকে ধাবিত হয়, যা আধ্যাত্মিক ও মানসিক চেতনা বৃদ্ধি করে।









