Thursday, 25 June, 2026
25 June
HomeকলকাতাTaratala: তারাতলায় কাজে গিয়ে হারিয়ে গেলেন কৃষ্ণা; গ্রেফতার ৩, ছাড় পাবেনা মূল...

Taratala: তারাতলায় কাজে গিয়ে হারিয়ে গেলেন কৃষ্ণা; গ্রেফতার ৩, ছাড় পাবেনা মূল অভিযুক্তরাও

আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে চলবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

তারাতলায় বড় দুর্যোগ। কারখানার ছাদ ভেঙে পড়ে মৃত্যু একাধিকের। আহত প্রচুর। তাঁদের সকলকে ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। এরই মধ্যে খবর এল ভাটপাড়া থেকে। সেখানে একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার। জানা গিয়েছে, ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরী। তিনি ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এই মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকাজুড়ে। প্রতিবেশী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। জানা গিয়েছে,মৃত কৃষ্ণা চৌধুরী পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর আয়েই চলত সংসার। আচমকা এই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন পরিবারের সদস্যরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, মৃতের পরিবারের পাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত দাঁড়ানো উচিত। অপরদিকে, নিহত কৃষ্ণা চৌধুরীর মা যশোদা দেবী চৌধুরী বলেন, “পরশু দিন কাজে গিয়েছি বেসব্রিজে….।” এরপর আর কথা বলতে পারলেন না তিনি। এলাকার বাসিন্দা অমিত শাহ বলেন, “ওর বাড়িতে পাঁচজন আছে। উনি আগে জুটমিলে কাজ করতেন। যেখানে কাজ পেতেন কাজ করতেন। ওঁর তো আর কেউ নেই। পুরো পরিবারের সর্বনাশ হয়ে গেল।”

আরও পড়ুনঃ কলকাতা মেট্রোর বেনজির ঘটনা; মেট্রোর লাইনে নেমে প্লাটফর্ম বদলাচ্ছেন মহিলা

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার সময় পর্যন্ত চলছে উদ্ধারকাজ। ১০ ঘণ্টা পার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, সবাইকে না বাঁচানো পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শেষ হবে না।

কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকারকে পাকড়াও করা হয়েছে। গ্রেফতার সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজারও। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলার মাঝেই এই গ্রেফতারির ঘটনা। 

সকালে ঢালাইয়ের কাজ চলার সময় আচমকাই কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত। আরও অনেকের আটকে থাকার আশঙ্কা। নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ও নিয়মবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এ দিন বিকেলে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁর বক্তব্য, ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল পুরসভা। সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন,’কলকাতা পুরসভা থেকে ব্লিডিংপ্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি। কী কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটা কাল বলব। কলকাতার পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, এটা ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যান’।

আরও পড়ুনঃ বউবাজার বিস্ফোরণকাণ্ডের রশিদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল মমতার সরকার!

দুর্ঘটনার পর ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে পড়েছেন, সেই বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও এই প্রসঙ্গ তুলে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন লেবার সাপ্লায়ারকে আনা গেলে প্রকৃত সংখ্যাটা জানা যাবে। অনুমান করা হচ্ছে, ধৃতদের জেরা করলে আরও তথ্য সামনে আসবে। তবে পুলিশ এও মনে করছে, তারাতলার এই গোডাউন ঘিরে গলদের শিকড় আরও গভীরে। মূল অভিযুক্তদের জালে নিয়ে তদন্ত চালানোর আশ্বাস দিয়েছে তারা। 

এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন,‘নির্মাণের প্ল্যানেই গুরুতর ত্রুটি ছিল।’ একইসঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা  এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে চলবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন