কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
মাল্টিপ্লেক্সে টিকিটের চড়া দাম। সবার পক্ষে সবসময় ট্যাঁক থেকে এত টাকা বের করা মুশকিল। যে কারণে সরকারি সুবিধায়, অনেকটাই কম খরচে দীনবন্ধু মঞ্চে সিনেমা দেখতে আগ্রহী থাকেন অনেক মানুষ। এছাড়া অনুষ্ঠান, নাটক প্রযোজনার জন্য ভাড়াও পাওয়া যায় এখানে। একসময় সিনেমা দেখানো বন্ধ হয়ে গেলেও ফের স্বমহিমায় সিনেমা ফিরে এসেছে দীনবন্ধু মঞ্চে। আর সিনেমার টানে আসতে শুরু করেছেন দর্শকও। তবে একটু গা এলিয়ে বসার উপায় নেই। অডিটোরিয়ামে প্রচুর চেয়ার ভেঙে রয়েছে। কোনও চেয়ারে বসার জায়গা ভেঙে নীচে পড়ে রয়েছে, কোথাও চেয়ারের কভার উঠে গিয়ে চেয়ার বেঁকে রয়েছে। কোথাও আবার চেয়ার অর্ধেক ভেঙে ঝুলে রয়েছে। কোনও চেয়ারের হাতল নড়বড়ে, যখন-তখন খুলে যেতে পারে। ফলে যাঁরা সিনেমা দেখতে আসছেন তাঁরাও কিছুটা ভ্রূ কোঁচকাচ্ছেন। এ তো হল চেয়ারের কথা, সিনেমা বা কোনও অনুষ্ঠান চলাকালীন যদি শৌচাগার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে তাহলে পড়তে হবে আরও সমস্যায়। মাঝেমধ্যেই অপরিষ্কার হয়ে থাকছে শৌচালয়গুলো, সেইসঙ্গে দুর্গন্ধ। নাকে হাত চাপা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হচ্ছে মানুষকে।
আরও পড়ুনঃ ‘খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ খালেদা জিয়া, জাতির কাছে প্রার্থনা বিএনপির
সিনেমা দেখে ফেরার পর সুভাষপল্লির পলি দেব বলছিলেন, ‘বিরতির সময়ে শৌচাগারে গিয়েছিলাম। তবে খুব খারাপ অবস্থা সেটার। দুর্গন্ধের জন্য ফের প্রেক্ষাগৃহেই ফিরে যাই। সেখানেও প্রচুর বসার চেয়ার ভেঙে রয়েছে, আবার কোনওটা এত নড়বড়ে যে বসতে ভয় করে।’
বসার চেয়ার সহ শৌচাগারের দুর্দশার কথায় সহমত ব্যক্ত করেছেন হাকিমপাড়ার আশুতোষ সেনও। বলছিলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রথমে যে চেয়ারটিতে বসতে যাই সেটা অর্ধেক ভেঙে ঝুলে রয়েছে। পরের চেয়ারে বসতে গিয়ে দেখি হাতলটা ভাঙা। উঠে আরও এগিয়ে দেখেশুনে একটা চেয়ারে বসলাম। আমার চেয়ার থেকে এক-দুটো চেয়ার এগিয়েই আরও একটি চেয়ারের বসার জায়গাটা ভেঙে পড়ে ছিল।’
তবে এসবের ঊর্ধ্বে গিয়েও আরও নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজমাধ্যমজুড়ে। সমাজমাধ্যমে একটি গ্রুপে অভিষেক রায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন, ‘ভাঙা চেয়ারের সংখ্যা যেন দীনবন্ধু মঞ্চে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অগ্রিম দিয়ে বুকিং-এর পরও লাইট-সাউন্ড অপারেটরদের উপরি দিতে হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মিলছে অসহযোগিতা। অনুষ্ঠান চলাকালীন যাতে অসহযোগিতার মধ্যে পড়তে না হয় সেই ভয়ে অনেকেই মুখ বুজে মেনে নেন সবটা। তাহলে কি শুধু শাসক নেতাদের আগমনেই সেজে ওঠে সব? আর সাধারণ মানুষের জন্য ভাড়ার টাকা ছাড়াও অন্য জিনিসের আলাদা আলাদা রেট বাঁধা?’
এমন মন্তব্যের পর শহরের জনপ্রিয় এই মঞ্চ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘এভাবে উপরি নেওয়ার কোনও কথাই নেই। আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ আসেনি। যদি কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে আমাকে অভিযোগ জানায় তবে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’
শিলিগুড়ি শহরের বর্তমান মেয়র গৌতম দেব উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী থাকাকালীন দীনবন্ধু মঞ্চে আধুনিক চেয়ার বসানো, শৌচালয় সংস্কারের কাজ করেছিলেন। তারপর বহুবার সংস্কার করা হয়েছে শহরের এই ঐতিহ্যকে। তবে ভাঙা চেয়ারের কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন সেগুলো ঠিক করা হবে।
তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এবং পুরনিগমের খরচে শহরের ঐতিহ্যবাহী দীনবন্ধু মঞ্চকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চললেও কিছু বেহাল অবস্থার জন্য সংস্কৃতির এই পীঠস্থান সমালোচনার মুখে পড়ছে। তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা (এডিআই) পাসাং বল বলেন, ‘দীনবন্ধু মঞ্চে ৭০৫টি চেয়ার রয়েছে। তার মধ্যে কিছু চেয়ার ভাঙা অবস্থায় থাকতে পারে, বিষয়টি দেখা হচ্ছে। দীনবন্ধু মঞ্চে নানা অনুষ্ঠান হয়, শৌচাগার সবসময় পরিষ্কার রাখারই চেষ্টা করা হয়।’









