শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীর ১৭৩-তম জন্মতিথি পালিত হবে আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। বেলুড় মঠ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে। আগামীকাল দিনটি রামকৃষ্ণ-সারদা ভাবাশ্রিত লাখো লাখো ভক্তদের কাছে অতি পবিত্র আনন্দানুষ্ঠানের মধ্যে পালিত হবে দেশ-বিদেশজুড়ে প্রতিটি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে। ইংরেজি তারিখমতে সারদার জন্মদিন অন্য হলেও রামকৃষ্ণ মিশন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে তিথি হিসেবে দিনটি পালন করে। যদিও তাঁর জন্মতারিখ ২২ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সাল।
আগামীকাল সকালে গুরুমহারাজের (রামকৃষ্ণ) আরতির পর মাতৃমন্দিরে মায়ের মঙ্গলারতি হবে। ভোর পৌনে ৫টা থেকে শুরু হবে বৈদিক মন্ত্রপাঠ। সাড়ে ৫টায় ভক্তিগীতি। সকাল ৭টায় হবে বিশেষ পুজো। একই সময়ে রামকৃষ্ণ মন্দিরে চণ্ডীপাঠ চলবে। অন্যদিকে সুসজ্জিত মণ্ডপে সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত চলবে মাতৃসঙ্গীতানুষ্ঠান। ৯টা থেকে শুরু শ্রীশ্রী মায়ের কথা থেকে পাঠ। ১০টা-দুপুর ২.৫০ পর্যন্ত চলবে ভজন, কীর্তন ও লীলাগীতি। প্রসাদ বিতরণ হবে দুপুর ১২টায়। সন্ধ্যায় ফের মঙ্গলারতির পর সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হবে ভক্তিগীতি।
মা সারদার মধ্যে কালীকে দেখেছিলেন ডাকাত-দম্পতি। তখন ১২৯০ সাল। সেই সময় থেকেই তেলোভেলোর মাঠ ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছে নিজেকে। সারদাদেবী কামারপুকুর থেকে হাঁটাপথে কলকাতায় যাচ্ছেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। অথচ তেলোভেলোর মাঠ পার হওয়া বাকি। সঙ্গিনীরা হাঁটছেন দ্রুতগতিতে। তাঁরা অন্ধকার নামার আগেই বুকে কাঁপন ধরানো আতঙ্কের তেলোভেলোর মাঠ পার হতে চান। কিন্তু, তাঁদের গতির সঙ্গে মেলাতে পারছেন না মা সারদা।

তাই বাধ্য হয়েই সঙ্গীদের এগিয়ে যেতে বলে হাঁটতে শুরু করলেন তিনি। ঘন অন্ধকার চারদিকে। সেই জঙ্গলপথে একা হাঁটছেন মা সারদা। হঠাৎই সামনে দেখলেন এক দীর্ঘাবয়ব মানুষ। সে হুঙ্কার দিয়ে বলল, কে গা এ সময়ে এখানে দাঁড়িয়ে? যাবে কোথায়। মা ততক্ষণে তার কাছাকাছি এসে পড়েছেন। সামনে দাঁড়িয়ে এক বলশালী পুরুষ। গায়ের রং ঘোর কালো। হাতে রুপোর বালা, কাঁধে লাঠি। সে ডাকাত। মা বললেন, যাব পুবে।

সারদা তাঁকে দেখে বিচলিত হননি। শিশুসুলভ সারল্যে তিনি বলেন, তোমার মেয়ে গো বাবা। আমি সারদা। যাচ্ছি তোমার জামাইয়ের কাছে দক্ষিণেশ্বর।
আরও পড়ুনঃ মৃত্যুতেও রেহাই নেই, প্রফুল্ল চাকীর মাথা কেটে পাঠানো হল কলকাতায়
একথা শুনেই রুক্ষ কঠিন ডাকাত সর্দারের মনও গলে। সে ভাবে, এতদিন ডাকাতি করলেও কেউ তাকে এভাবে বাবা বলে ডাকেনি। মা সারদার মধ্যে ডাকাত সর্দার ভীম নিজের আরাধ্য দেবী মা কালীকে দেখতে পান।
মা সারদার মধুর কণ্ঠ শুনেছিলেন ডাকাত সর্দারের স্ত্রী-ও। তিনি মা সারদাকে নিজেদের কুটিরে নিয়ে গিয়ে যত্নআত্তি করেন। ঘরে ছিল মুড়িমুড়কি ও চালভাজা। তাই তিনি খেতে দেন মা সারদাকে। তৃপ্তি করে খেয়ে মাটির দাওয়াতেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মা সারদা। পরদিন ভোরে ডাকাত সর্দার ভীম নিজেই মা সারদাকে তাঁর সঙ্গীদের কাছে পৌঁছে দেন। ডাকাত সর্দার ভীম ভাবে বহু জন্মের পুণ্যফলে মা ভবতারিণী নিজে এসেছেন তাঁর কাছে। তারপরই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রাচীন এক মন্দির। এখনও সেখানে মায়ের নিত্যভোগে দেওয়া হয় চালভাজা ও মুড়িমুড়কি।









