জয়দীপ মৈত্র, বালুরঘাট :
মহারাষ্ট্রের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া পরিযায়ী দুই শ্রমিকের পরিবারের সাথে সশরীরে দেখা করলেন তৃনমুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। পাশাপাশি বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বাংলাদেশী সন্দেহ হওয়ায় তাদের জেলে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় তৃনমুলের তরফে অভিযোগ করা হয় অসহায় ওই দুই পরিবার বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের সাথে দেখা করে তাদের পরিবারের কর্তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার জন্য দেখা করলেও বালুরঘাটের সাংসদ নাকি কোন সাহায্য করেনি। দুই শ্রমিকের মধ্যে একজন গৌতম বর্মন নাকি বিজেপির একজন বুথ কর্মী হলেও সাংসদ কোন সাহায্য করে নি। বরং তারা তৃনমুল নেতৃত্বের দ্বারস্থ হলে তারা তাদের দলের সেনাপতির সাথে যোগাযোগ করলে, তিনিই তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থ্যা করেন। তারা সাত মাস পর জেল থেকে বেড়িয়ে কলকাতায় অভিষেকের সাথে দেখা করতে গেলে অভিষেক তাদের জানায় তিনি তাদের বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে কথা যেমন বলব তেমনি তাদের পরিবারের দিন যাপনের কথা গুলো শুনবেন। সেদিকে লক্ষ রেখেই তাদের দলের তাদের দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দোপাধ্যায় তাদের সাথে দেখা করে তাদের কথা শুনতে তাদের বাড়িতে আসেন, বলে তৃনমুলের নেতৃত্ব জানিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ১৯৪৫-এর ১৮ আগস্ট সেখানে কোনও বিমান দুর্ঘটনাই ঘটেনি! তাইওয়ানের তদন্ত রিপোর্ট গেল রাষ্ট্রপতির দপ্তরে
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন অভিযোগ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন ওই গৌতম বর্মনের স্ত্রীর একটি ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিয়েছি। যেখানে উনি বলছেন আমি উনাকে আশ্বস্ত করে তখন ওকে ছাড়ানোর ব্যাপারে একজনকে ফোন করেছিলাম। আসলে তৃনমুল এতদিন আমার বিরুদ্ধে কিছু না করতে পেরে তাই ওদের দিয়ে মিথ্যে বলিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। তিনি বরং পালটা তৃনমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন আমার কাছে খবর রয়েছে ওই পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের দিয়ে তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যে বলিয়ে নিয়ে ফয়দা লোটার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিন অভিষেক তপনের লক্ষীপুরে জেলে পাঠানো দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মনের বাড়িতে গিয়ে কাছ থেকে তাদের মহারাষ্ট্রের জেলে কাটানোর অভিশপ্ত মাখা দিন গুলোর কথা শোনার পাশাপাশি জেলে তারা কি খেতেন সে সব কথাও মন দিয়ে শুনলেন অভিষেক।জেনে নিলেন দীর্ঘ সাত মাস পর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বালুরঘাটের লক্ষীপুরের তাদের বাড়িতে ফিরে কি দেখলেন বাড়ির হাল ও কি খেলেন।শুধু ডাল ভাত খাওয়ার কথা শুনে অভিষেককে এও বলতে শোনা গেল নিজের বাড়িতে ডাল ভাত খেয়ে থাকাও আনন্দের।এরপরেই তাদের হাতে হলুদ কাগজের প্যাকেট তুলে দিতেও দেখা যায়।
এরপরেই তিনি দুই পরিযায়ী শ্রমিককে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদারকে তীব্র আক্রমন করে বলেন উনি তো স্টপেজ মন্ত্রী, শুধু দিল্লি থেকে ট্রেনের স্টপেজ করেন। আর নিজে দিল্লিতে র্যাম্পে হাটেন। কিন্তু তার এলাকার দুই শ্রমিকের পরিবার সাংসদের কাছে সাহায্যের জন্য গেলেও তিনি ক্রেন নি।তিনি অভিযোগ জানিয়ে আরও বলেন রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।তিনি এরপরেই বলেন তারা রাজনীতি করেন না। তিনি এও দাবি করেন আমি তো দাবি করব জেলার ছয়টি আসনে ছয় করতে।কিন্তু সে তো বলবে জনগন তারা যদি চায় বিজেপি কে তবে বিজেপিই থাকবে।আর যদি আমাদের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আমাদের চায় তো আমরা ছয়ে ছয় পাব।
আরও পড়ুনঃ ভাবনায় ‘মহাজোট’, কৌশল বদলাতে চলেছে বিজেপি! ব্লুপ্রিন্ট তৈরি গেরুয়া শিবিরে
এদিন দুপুরে বালুরঘাট বিমানবন্দরে হেলিকপ্টরে এসে নামেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের ঘেরাটোপে কুমারগঞ্জের বাসিন্দা এস আই আর আতংকে মৃত ওছমান মোল্লার পরিবারের সাথে দেখা করেন অভিষেক।সেখানে তাদের সাথে কথা বলার পর তিনি সোজা চলে আসেন তপন বিধানসভার অন্তর্গত লক্ষীপুরে দুই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন।পরে দুই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে অভিষেক অছমান মোল্লার পরিবারের সাথে দেখা করার কথা বলতে গিয়ে বলেন ওসমান মোল্লা কুমারগঞ্জের বাসিন্দা
তার ছেলে বলল তার বাবা এত আতংকিত হয়ে পড়েছিল যে তাকে আমরা অনেক বুঝিয়ে ও ভয় কাটাতে পারে নি, সে আত্মবত্যা করে।









