কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
পুরনিগমের বাজেটে একের পর এক চমক দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বোর্ড ৷ শিলিগুড়ি পুরনিগমে বাজেট পেশ করেন মেয়র গৌতম দেব ৷ শনিবার বাজেটের উপর আলোচনা সভা আয়োজিত হয় অধিবেশন কক্ষে ৷ এবছর বাজেটে চুক্তিভিত্তিক এবং দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে ৷ আবার আশাকর্মীদের ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি, নতুন করে আরও ৫০০ জনকে বিধবাভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে ৷ তবে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করলেন মেয়র গৌতম দেব ৷ যদিও তা রাজস্ব আদায় করে পূরণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি ৷
আরও পড়ুনঃ ফের প্রশাসনিক অদলবদল! রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল, দুই জেলার এসপি বদলি
বাজেটে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৬২৭ কোটি ৫৮ লক্ষ ৭হাজার টাকা ৷ আর বার্ষিক খরচের পরিমাণ ৬৩৮ কোটি ৪২ লক্ষ ৭ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে ৷ অর্থাৎ, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ১০ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ৷ এছাড়া এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের থেকে কমানো হয়েছে ৷ সেবার বাজেট করা হয়েছিল ৬৫৮ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার ৷ সেই তুলনায় এবারের বাজেটে কমানো হয়েছে প্রায় 46 কোটি 81 লক্ষ 93 হাজার টাকা ৷
মেয়র গৌতম দেব বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৬৩৮ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার বাজেট বরাদ্দ ও ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের ৪৫৬ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার সংশোধিত বাজেট পেশ করা হল ৷ জনমুখী এই বাজেটে আমরা কর্মীদের কথা ভেবেছি ৷ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট পে-স্ট্রাকচার তৈরি করা হল ৷ বাম আমলের বকেয়া টাকা মেটানো হয়েছে ৷ বেতন বৃদ্ধি হওয়ায় কারও পাঁচ হাজার, কারও তিন হাজার টাকা করে বেতন বাড়ানো হল ৷ এছাড়া ছায়াস্নিগ্ধ বিদ্যালয়ের অধীনে শহরের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫টি করে ফুল ও ফলের গাছ লাগাতে হবে ৷ যাঁরা পরিচর্যা করে তা বাঁচিয়ে রাখবে, তাঁদের পুরষ্কৃত করা হবে ৷ ইন্ডোর স্টেডিয়ামেও এবার যুব আবাস করা হবে ৷ শহরের রাস্তাঘাট মেরামত করার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ আর ঘাটতি বাজেটের টাকা রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে পুষিয়ে দেওয়া হবে ৷”
পুরনিগমে চুক্তিভিত্তিক যে সকল কর্মী ন্যূনতম ১০ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন, তাদের সর্বনিম্ন বেতন সমতুল্য স্থায়ী পদের সর্বনিম্ন বেতনের ৭০ শতাংশ নির্ধারিত করা হয়েছে ৷ আবার যাঁরা ২০ বছর ধরে কর্মরত, তাঁদের একইভাবে ৮০ শতাংশ ও যাঁরা ৩০ বছর ধরে রয়েছে, তাঁদের একই পদ্ধতিতে ৯০ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছে ৷ তিন ধরনের মিলিয়ে মোট ১১২জন কর্মচারী উপকৃত হবেন ৷ এখন মোট ২৪২ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছে ৷ তাদের যে যখন ১০, ২০ ও ৩০ বছর পার করবে, তারা এই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে বেতন পাবে ৷
আরও পড়ুনঃ আচমকা থমকে গেল দার্জিলিং মেল! হুলস্থুল জলপাইগুড়ি স্টেশনে
এই কারণে আগে যেখানে মাসে ৩৫ লক্ষ ৬ হাজার ১৫৫ টাকা প্রদান করা হতো, তা বেড়ে হবে ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা । এছাড়া ৩০ বছর ধরে কর্মরত দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক ২৬০ জন কর্মীর মাসিক বেতন ১১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হল ৷ আগে তাঁরা দৈনিক ৩৪৯ টাকা করে পেতেন, তাতে তাঁদের মাসে ১০ হাজার ৮১৯ টাকা হতো ৷
এর ফলে পুরনিগমের নিজস্ব তহবিল থেকে বছরে ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে ৷ আবার এরা ছাড়াও বাকি যে সকল দৈনিক হাজিরা কর্মী রয়েছে, তাঁদের মাসিক বেতন চার শতাংশ বাড়ানো হয়েছে ৷ তাতে তাঁরা দৈনিক ৩৫০ টাকা করে পাবেন ৷ বাম আমলে যেটা ছিল মাত্র ২৯৭ টাকা ৷ পাশাপাশি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পাওনা গ্র্যাচুইটি দ্রুত প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে ৷ দু’টি অর্থবর্ষ মিলিয়ে ইতিমধ্যে ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা গ্র্যাচুইটি দেওয়া হয়েছে বলে জানান গৌতম দেব ৷
যদিও এদিন বাজেটে গরহাজির ছিলেন বিতর্কিত মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মন, বহিষ্কৃত মেয়র পারিষদ শ্রাবণী দত্ত ৷ পাল্টা এই বাজেটের সমালোচনা করে কাউন্সিলর তথা সিপিআইএম নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, “দিশাহীন এই বাজেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাঁচালি ছাড়া কিছু নয় ৷” পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, “এটা কাল্পনিক বাজেট ৷ এতে শহরের কোনও উন্নয়ন হবে না ৷”









