যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং-এর কালো মেঘ যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার খোদ কলা বিভাগের ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে ভয়াবহ হেনস্থা ও গণপিটুনির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির ওই একই বিভাগের বেশ কয়েকজন সহপাঠী এবং উঁচু ক্লাসের পড়ুয়াদের দিকে। ইতিমধ্যেই নিগৃহীত ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস’-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রতীক’ এর ‘ বেলাগাম কথা! ক্ষমা চাইলেন CPI(M) ত্যাগী তৃণমূল ‘প্রতীক’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ওই ছাত্রের অভিযোগে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণ মিলেছে। তাঁর দাবি, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু ডিন অফ আর্টসের ঘরের পাশের একটি কক্ষে বসে তাস খেলছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাঁরই কয়েকজন সহপাঠী ও সিনিয়র পড়ুয়া সেখানে চড়াও হয়। অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় ওই ছাত্রকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করে অভিযুক্তরা। রীতিমতো ঘিরে ধরে হাততালি দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে বিভাগ থেকে বের করে দেওয়ার এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁকে ‘গণপিটুনি’ দেওয়া হবে বলেও শাসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্র।
সূত্রের খবর, অভিযোগকারী ছাত্রের নিশানায় রয়েছেন এফএফআই সদস্যেরা। দাবি, এই প্রথম নয়, এর আগেও নানা ভাবে তাঁকে উত্যক্ত করা হয়েছে। এক ছাত্রীর নাম করেও তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাঁরা হাসাহাসি করেন। অভিযোগকারী ছাত্রের রাজনৈতিক পরিচয় অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে, তাঁর অভিযোগে উঠে এসেছে রাজনীতির প্রসঙ্গ। বাংলা বিভাগের এক প্রাক্তনীর নাম করেও অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ছাত্র। তাঁর দাবি, ওই প্রাক্তনী এসএফআইয়ের সভায় পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অমান্য করা হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে বলে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, তিনি ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারেননি। মনোবিদের সাহায্য নিয়ে তিনি ফিরতে পেরেছেন পড়াশোনায়।
আরও পড়ুনঃ অবাক করছে সকলকে? কিসের খোঁজ পাওয়া গেল পুরুলিয়ায়!
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অ্যান্টি-র্যাগিং স্কোয়াডকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।’ অন্যদিকে ডিন অব স্টুডেন্ট অনুপম দেবসরকার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অ্যান্টি র্যাগিং স্কোয়াডে পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্ত রিপোর্ট অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছে পেশ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, গত বছর এক ছাত্রের মৃত্যুর পর যাদবপুরের র্যাগিং সংস্কৃতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। তারপরও কেন বারবার একই ধরনের অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিভাবক ও প্রাক্তন পড়ুয়াদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং অন্দরের পরিবেশ নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল এই সাম্প্রতিক ঘটনা।









