এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। যেটি সম্পর্কে জানার পর অবাক হবেন প্রত্যেকেই। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, চলতি অর্থবর্ষের (২০২৫-২৬) এপ্রিল থেকে জানুয়ারির মধ্যে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ ৭২০.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। PIB-র এক রিপোর্ট অনুসারে, গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬৭৯.০২ বিলিয়ন ডলার। যার অর্থ ভারতীয় বাণিজ্য ৬.১৫ শতাংশের একটি শক্তিশালী এবং বড় বৃদ্ধি পরিলক্ষিত করেছে। এমনিতেই রফতানির প্রসঙ্গ সামনে এলে সাধারণত আমরা বন্দর এবং বড় জাহাজের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহণের কথা ভাবি। কিন্তু ভারতের আসল শক্তি তার সার্ভিসের মধ্যেও নিহিত রয়েছে। ভারত এখন আইটি থেকে শুরু করে ব্যবসা এবং পেশাদার পরিষেবার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই কারণেই এপ্রিল থেকে জানুয়ারির মধ্যে পরিষেবা রফতানি ১০.৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫৪.১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুনঃ ভারত US-Israel ইরানে হামলার নিন্দা করবে না! ভারত নিজেও শীঘ্রই একই ধরনের অভিযান চালাতে পারে!
এর আগে ২০২৪-২৫ সালেও, এই হার ৩৮৭.৫ বিলিয়ন ডলারের সর্বকালের সর্বোচ্চ ছুঁয়েছিল। যা ভারতকে ১৮৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ট্রেড সারপ্লাস এনে দিয়েছে। পরিষেবা খাতের এই নিরবচ্ছিন্ন সাফল্য দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর জন্য উপলব্ধ উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তাঁদের দক্ষতার জন্য প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ওপর প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার নতুন যুগ: জানিয়ে রাখি যে, ভারত পণ্যদ্রব্য খাতেও বড় বৃদ্ধি অর্জন করেছে।বর্তমানে ভারতে তৈরি স্মার্টফোন এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলি দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। ওষুধ থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য, টেক্সটাইল এবং অটোমোবাইল সেক্টরও এই বিরাট বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ নেতানিয়াহুর অফিসে প্রাণঘাতী হামলার দাবি ইরানের
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রতিরক্ষা খাত। ২০২৪-২৫ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি রেকর্ড তৈরি করে ২৩,৬২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যেটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভারত এখন কেবল অস্ত্র আমদানিকারী নয়, বরং উচ্চমূল্যের উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত একটি প্রধান অস্ত্র রফতানিকারী হয়ে উঠছে। এটি কেবল বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বৃদ্ধি করে না বরং শিল্প ব্যবস্থায় অসংখ্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে।
ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির একটি প্রধান কারণ হল ভারত এখন আর শুধুমাত্র কয়েকটি বাজার বা কয়েকটি পণ্যের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেনি। United Nations Conference on Trade and Development অনুসারে, পণ্য বৈচিত্র্যের দিক থেকে ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর শীর্ষ ৫ টি অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে। বাণিজ্যিক অংশীদারদের বৈচিত্র্যের দিক থেকেও ভারত শীর্ষ ৩ স্থান অর্জন করেছে। গত ৩ বছরে, ভারত ৩৮ টি দেশের সঙ্গে ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করেছে। এই কৌশলগত চুক্তিগুলি ভারতকে বিশ্বের GDP-র ৭০ শতাংশে পৌঁছে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করেছে।









