পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এমনই দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। আর তাতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পাকিস্তানের। মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাত চলছে।
আরও পড়ুনঃ মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের বৃষ্টি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি? অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুবাই বিমানবন্দর
গত ৪ দিন ধরে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ। চারিদিকে শুধু মৃত্যু মিছিল। এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দাবি করে বসলেন ভারতের নেতারা আবারও একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে, আর যুদ্ধ চাইছে না পাকিস্তান। শান্তির বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট।
পাকিস্তানের সংসদে যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জারদারি দাবি করেন, তিনি যুদ্ধের পক্ষে নন। কখনওই তিনি এই বিষয়টাকে সমর্থন করেন না। দুই দেশের মধ্যে শান্তি বজায় থাকুক। দিল্লিকে যুদ্ধের রঙ্গমঞ্চ থেকে সরে আসার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জারদারি বলেন, “ভারতের নেতারা বলছেন, তাঁরা আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি সবসময় শান্তির সমর্থক। এটা কখনওই সুপারিশ করব না।ভারতের প্রতি আমার বার্তা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আলোচনার টেবিলে আসুন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এটাই একমাত্র পথ।” যদিও নয়া দিল্লির তরফে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুনঃ খেলা গেল ঘুরে; পাকিস্তানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন জারদারি। গোটা বিষয়টা জল-সন্ত্রাসবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নয়াদিল্লি জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। জারদারি আরও বলেন,”পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।” তবে,কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি অধরাই থাকবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর অভিযান করেছিল ভারত। দিনটা ছিল ৭ মে। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। পাল্টা পাকিস্তান হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ করে সফল হয় ভারতীয় সেনা। প্রায় তিনদিন ধরে সংঘাত চলেছিল দুই দেশের মধ্যে। তারপর ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ভারত-পাকিস্তান। তবে, মাসকয়েক আগেই ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছিল, অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে। আবার দিন কয়েক আগেই ভারতীয় সেনা পাকিস্তানকে সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছে আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে অপারেশন সিঁদুর ২.০। পাকিস্তান কোনও প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করলে পাকিস্তানের কপালে দুঃখ রয়েছে। তাহলে কি পাক প্রেসিডেন্টের দাবি সত্যি হতে চলেছে?









