বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল৷ শুরু হয়েছে কাটছাঁট৷ তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতাদের পর এবার এই তালিকায় যুক্ত হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এক ধাক্কায় ‘মহারাজ’-এর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দিয়েছে।
এত দিন ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি-র সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড ক্যাটাগরি’র (Z Category) নিরাপত্তা পেতেন। তবে এবার সেই সুরক্ষার বহর আর থাকছে না। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌরভকে এখন থেকে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র (Y Category) নিরাপত্তা দেওয়া হবে। হঠাৎ কেন তাঁর নিরাপত্তা কমানো হল, তা নিয়ে সৌরভের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷
আরও পড়ুনঃ ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২১টা খুনের আসামি’; বিস্ফোরক মন্ত্রী
নিরাপত্তার বহরে কী কী বদল?
প্রোটোকল অনুযায়ী, ‘জেড ক্যাটাগরি’র সুরক্ষায় সাধারণত পাইলট কার সহ অন্তত ৩৫ জন সশস্ত্র পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কমান্ডো মোতায়েন থাকেন। কিন্তু নিরাপত্তা দুই ধাপ কমে ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ হওয়ায় সৌরভের সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়াবে মাত্র ৩ থেকে ৪ জনে, যার মধ্যে কেবল দু’জন থাকবেন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী।
আরও পড়ুনঃ গ্রেফতারির ভয়ে হাইকোর্টে ‘ভাইপো’ অভিষেক
অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের কড়া বার্তা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হবে। নবান্নে দায়িত্ব নিয়েই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, কোনো রাজনীতিক বা বিশিষ্ট ব্যক্তির যদি প্রকৃত কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা থ্রেট না থাকে, তবে তাঁকে করদাতাদের টাকায় অপ্রয়োজনীয় বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।
এর পরেই রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত ভিআইপি সুরক্ষার খতিয়ান পর্যালোচনা করা শুরু হয়। এই ছাঁটাই তালিকায় সবার প্রথমে কোপ পড়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায়। তাঁর সমস্ত বাড়তি সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে জানানো হয়, একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর যতটুকু নিরাপত্তা প্রাপ্য, ঠিক ততটুকুই দেওয়া হবে। অভিষেকের পর একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের সুরক্ষায় কাঁচি চালানোর পর এবার সৌরভের নিরাপত্তা হ্রাস রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।



