দিল্লির যন্ত্র মন্তর থেকে শুরু হওয়া নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চলমান ছাত্র আন্দোলনের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, এই ঘটনার দায়ীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমাদের যুব সমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় এটি একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, যারা ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি করতে চায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুনঃ প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন হবে! ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলেছে, “ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে।” সিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি অব্যাহত রেখেছে।
আন্দোলনের পটভূমি ও অবস্থা
- নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর সংস্কারের দাবি তুলেছে।
- সিজেপি ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে যন্ত্র মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে।
- বিরোধী দলগুলির সমর্থিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার পর সংঘর্ষ ও আঘাতের ঘটনা ঘটে।
- অনেক বিক্ষোভকারী আটক ও এফআইআর দায়ের হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে অশান্তি ‘ককরোচে’র? রাজ্যগুলিকে বিশেষ নির্দেশের পথে কেন্দ্র
সরকার ও বিরোধীদের অবস্থান
- অনশনরত সোনম ওয়াংচুক কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবির পূরণের আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙার কথা জানিয়েছেন।
- কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিরোধী দলগুলিকে এই বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংসদে আলোচনায় সরকারের প্রস্তুতি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের তরুণদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি জোরালো হলেও, আন্দোলনের মূল দাবি—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং সিজেপির তরফ থেকে তা অব্যাহত রয়েছে। দিল্লির বিক্ষোভ পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি।



