মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত, এই আবহেই ফের ভারত পাক সীমান্তে উত্তেজনা। সাত সকালেই রহস্যময় এক বেলুন ভেঙে পড়ল জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরিতে। হোলি উৎসবের সকালেই রাজৌরি জেলার সারহোতি গ্রামে একটি লাল-সাদা রঙের বিমান আকৃতির বেলুন উদ্ধার হয়েছে, যার উপর স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘পিআইএ’। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ এই ধরনের বেলুন সাধারণত খেলনা হলেও জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকায় এর উপস্থিতি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আয়াতোল্লাহ কি সত্যিই ভারতের বন্ধু ছিলেন! না কি এটা কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার বানানো গল্প?
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলুনটিকে নিরাপদে হেফাজতে নিয়েছে এবং এর উৎস নির্ধারণের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।সোমবার দুপুরের দিকে সারহোতি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা আকাশে ভেসে থাকা এই অদ্ভুত বস্তুটি লক্ষ্য করেন। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন এটা হয়তো কোনো শিশুর খেলনা বা উৎসবের বেলুন, কিন্তু কাছে গিয়ে দেখেন এটি বিমানের আকারে তৈরি এবং তার গায়ে লাল-সাদা রঙের সঙ্গে ইংরেজিতে ‘PIA’ এবং উর্দুতে কিছু লেখা রয়েছে।
‘PIA’ মানে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থা। এই দেখে গ্রামবাসীদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী পুলিশ পোস্ট তেরিয়াথ-এ খবর দেন।পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বেলুনটি যেখানে পড়েছিল, সেটি একটি খোলা মাঠ বা গাছের কাছে ছিল বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের বৃষ্টি, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি? অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুবাই বিমানবন্দর
পুলিশ কর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে বেলুনটিকে সরিয়ে নেন এবং এতে কোনো বিস্ফোরক, ইলেকট্রনিক যন্ত্র বা সন্দেহজনক কিছু আছে কি না তা পরীক্ষা করেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় কোনও বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি, তবে বেলুনটির আকার এবং মার্কিং দেখে অনেকেই মনে করছেন এটি পাকিস্তান থেকে আসতে পারে। রাজৌরি জেলা লাইন অফ কন্ট্রোলের (LoC) কাছাকাছি অবস্থিত, যেখানে সীমান্তের ওপার থেকে এ ধরনের বস্তু বাতাসের সঙ্গে ভেসে আসা অস্বাভাবিক নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম খান বলেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো বাচ্চার বেলুন উড়ে এসেছে। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি ‘PIA’ লেখা। এখানে তো পাকিস্তানের নাম শুনলেই সবাই চিন্তায় পড়ে যায়। আমরা ঠিকই করেছি পুলিশকে খবর দিয়ে।” আরেক বাসিন্দা শাহিদা বেগম জানান, এলাকায় এর আগেও এমন কিছু ঘটেছে। কয়েক বছর আগে অনুরূপ বেলুন পাওয়া গিয়েছিল, যা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেন, “সীমান্তের কাছে থাকলে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। কখন কী উদ্দেশ্যে কিছু পাঠানো হয়, কেউ বলতে পারে না।”









