ভোটের আগে আচমকা বাংলার রাজ্যপালের পদ থেকে পদত্যাগ সিভি আনন্দ বোসের। কেন এই সিদ্ধান্ত তা নিয়ে জল্পনার মধ্যে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। সেখানেই সামনে এল পরবর্তী রাজ্যপালের নাম। এক্স হ্যান্ডেলের ওই পোস্টেই মমতা লিখছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আর.এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে।’ যদিও এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানাতে ভোলেননি তিনি। কিন্তু কে এই আর.এন. রবি?
আরও পড়ুনঃ আচমকা পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস
অজিত ডোভালের অন্যতম বন্ধু, ডেপুটি। প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। একসময়ের তুখোড় IB অফিসার, সিবিআই অফিসার, জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান। ১৯৭৬ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তাঁর পুরো নাম রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। এর আগে তামিলনাড়ু ও নাগাল্যান্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। জন্ম বিহারের পটনা। ৩ এপ্রিল ১৯৫২। ছাত্রাবস্থা থেকেই মেধাবী ছাত্র বলে পরিচিতি। পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন শেষ করেই তিনি দেশসেবার লক্ষ্যে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৭৬ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। তবে তাঁর কর্মজীবনের সিংহভাগ কেটেছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে। তিনি দীর্ঘ সময় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহ দমন এবং জাতীয় নিরাপত্তায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। ২০১৪ সালে তিনি ভারত সরকারের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যানও নিযুক্ত হন।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক হলো ‘নাগা শান্তি আলোচনা’। তিনি ভারত সরকারের প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তাঁকে দেশের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার (Deputy NSA) হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র মহুয়াকে নিয়ে জোর বিতর্ক
২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলেছেন। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি তামিলনাড়ুর ১৫তম ও বর্তমান রাজ্যপাল। কিন্তু ওই সময়কালেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে বারবারই তাঁর সংঘাত সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে রাজ্যপাল আর এন রবিকে ‘কেন্দ্রীয় এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও দ্বারস্থ হয়েছিল স্ট্যালিন সরকার।
রাজ্য়পালের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১২টি বিল আটকে রাখার অভিযোগ তোলে তাঁরা। পরবর্তীতে এই মামলায় উঠে আসে রাষ্ট্রপতির বিল আটকে রাখার ক্ষমতাও। এক কথায় তামিলনাড়ুর সেই বিতর্কিত রাজ্যপাল, এবার পা রাখার সম্ভবনা বাংলায়। গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যপালের সঙ্গে যে সংঘাত বাংলার সরকারের দেখা গিয়েছে, সেই নজিরের কি পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন আর এন রবি? এখন দেখার বিষয় সেটাও।









