আজ চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে চলেছে। বৃহস্পতিবার বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর, আজ শুক্রবার বিকেলে সরকারিভাবে কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন ফিরহাদ (ববি) হাকিম। গত পরশুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি, দিদিও তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের এখনও খাতায়-কলমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও মেয়রের অবস্থা এখন ‘নিধিরাম সর্দারে’র মতো—পদ আছে কিন্তু ক্ষমতা উধাও। একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন, অরূপ চক্রবর্তী বা সুশান্ত ঘোষের মতো হেভিওয়েটরা মেয়র পারিষদ ও কমিটি থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্য; লালবাজারে অভিযোগ অখিল হিন্দু মহাসভার
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ববি হাকিম খোদ দাবি করেছেন, পুর কমিশনার বা বিল্ডিং বিভাগও তাঁর কথা শুনছেন না! তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভা নোটিশ পাঠিয়ে দিয়েছে। যদিও ববি হাকিমের এই ‘অসহায়তা’র তত্ত্ব কালীঘাট কতটা বিশ্বাস করছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়েছে। মোদ্দা কথা, ক্ষমতা হারিয়ে চেয়ার আঁকড়ে না থেকে সম্মান বাঁচাতে আজই ইস্তফা দিচ্ছেন ববি।
নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত, ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়া মাত্রই কলকাতা পুরসভায় ‘প্রশাসক’ বসিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক অলিন্দের খবর, বর্তমান পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকেই কলকাতা পুরসভার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হতে পারে। আর এই প্রশাসক বসার পর থেকেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে ভোটের প্রস্তুতি।
আরও পড়ুনঃ কেন এত লেডিস কামরা? ধামুয়া স্টেশনে রেল অবরোধ
কলকাতা ও সংলগ্ন পুরসভাগুলিতে ভোট করানোর বিষয়ে গত সপ্তাহেই নবান্নে এক প্রস্থ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়ে গেছে। সেই আলোচনার সূত্র ধরে জানা গেছে:
ভোটের সময়সীমা: আগামী নভেম্বর মাসের শেষ দিকে বা ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে কলকাতা পুরসভার ভোট করানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে।
উৎসবের পর ভোট: নবান্নের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছট পুজো শেষ হয়ে গেলেই পুরভোটের দামামা বাজিয়ে দেওয়া হবে।
একযোগে মেগা ভোট: শুধু কলকাতা নয়, নভেম্বর-ডিসেম্বরের এই একই দফায় হাওড়া, বিধাননগরসহ রাজ্যের সব কটি বড় পুরসভাতেই ভোটগ্রহণ সেরে ফেলতে চাইছে নতুন সরকার।
যার অর্থ রাজ্যে প্রশাসনিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার পুরসভাগুলির ক্ষমতা পরিবর্তনের পালাও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল।



