দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল থেকে টানা ২০ দিনের বেশি অনশন চালানোর পর অবশেষে সামাজিক কর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন থেকে অনশনে বসেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে, যা শুরু হয়েছিল NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রোধে কেন্দ্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছিল।
অনশন যত দীর্ঘ হয়, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা ততই খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসকদের বুলেটিনে দেখা যায়, তিন সপ্তাহে তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে ৯ কেজি কমে গিয়েছে। শরীরে গ্লুকোজের অভাবে প্রথমে চর্বি এবং পরে পেশি ক্ষয় শুরু হয়েছে। কিটোন এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করেছিলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।
ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আন্দোলনস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সমর্থকরা অভিযোগ করেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাবির প্রতি উদাসীন ছিল। অন্যদিকে প্রশাসন জানায়, ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য এবং চিকিৎসকদের সুপারিশ অনুসারে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টও বলেছিল, নাগরিকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং প্রয়োজনে অবিলম্বে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
এই আন্দোলনে ওয়াংচুকের পাশাপাশি আরও একাধিক ছাত্রনেতা ও কর্মী অনশনে অংশ নিয়েছিলেন। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর তিন কর্মীর শারীরিক অবস্থাও আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। তাঁদের মধ্যে এক জনের রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে শিল্পের নতুন আলো, শুভেন্দুর প্রশংসায় বুদ্ধ জায়া মীরা
ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। বিরোধী দল, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে সমর্থন জানিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহারেরও আবেদন করেছেন। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দায় নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এই ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে জাতীয় বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কি রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।


