পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আগুন লেগেছে মধ্যবিত্তদের হেঁসেলেও। সিলিন্ডার প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ টাকা। তার উপর ২৫ দিন অন্তর বুক করতে হবে রান্নার গ্যাস। তার আগে গ্যাস বুক করা যাবে না।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে আতঙ্ক! এক-এক করে বন্ধ হচ্ছে হোটেল-রেস্তরাঁ
আবার গ্যাস বুক করলেও,যে সহজে তা মিলবে, এমনটাও নয়। বুক করার প্রায় ১৫-২০ দিন পর গ্যাস ডেলিভারি করা হচ্ছে। এই আবহে ইনডাকশন কুকারের চাহিদা প্রচুর বেড়েছে। কলকাতায় প্রচুর পরিমাণে ইন্ডাকশন কুকার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বিক্রি বেড়েছে রান্নার নানারকম ইলেকট্রিক সামগ্রীরও ।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতায় ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। গত শনিবার থেকেই ইন্ডাকশনের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে খোসলা ইলেকট্রনিক্সের ডিরেক্টর মনীশ খোসলা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। আসলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষ আতঙ্কিত। তাছাড়া, সিলিন্ডারও সময় মতো মিলবে কি না সেই বিষয় নিয়েও উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।” তিনি আরও জানিয়েছেন, শনিবারের হিসেব তাদের বিক্রি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাকি দিনগুলিতেও একই হারে বিক্রি বজায় রয়েছে। সাধারণত, কলকাতার ৮৬টি আউটলেটে প্রায় ৪০-৪৫টি ইন্ডাকশন কুকার বিক্রি করেন তাঁরা। বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১২০-১৩০-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ৮০টি ইনডাকশন বিক্রি বেড়েছে।
আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে কার্যকর হল ‘জরুরি’ আইন; বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের
ইন্ডাকশন কুকার ছাড়াও অন্যান্য বৈদ্যুতিক রান্নার সামগ্রী যেমন ইলেকট্রিক কেটলি, কুকারেরও বিক্রি অনেকটাই বেড়েছে। ওই সংবাদমাধ্যমকে রায়পুর ইলেকট্রনিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাজিন্দর সিং রায়পুর বলেন, “রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ ইন্ডাকশন কুকার এবং তার বাসন কেনার জন্য দোকানে ভিড় করতে শুরু করেছে।” গ্রেট ইস্টার্ন রিটেইলের ডিরেক্টর পুলকিত বৈদ বলেন,” ইন্ডাকশন কুকার ছাড়া ইলেকট্রিক কেটলির মতো অন্যান্য জিনিসও বিক্রি করছি। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকে নতুন মাইক্রোওয়েভ ওভেনও কিনছেন।”
প্রসঙ্গত, গ্যাস সঙ্কটের আবহে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই সব তৈল পরিশোধনাগারগুলিকে এলপিজি প্রোডাকশন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সবাই যাতে গ্যাস পায়, তার জন্য কেন্দ্র গ্যাস বুকিংয়ের সময় ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করেছে। কিন্তু, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকের অভিযোগ, গ্যাস বুক করেও সময়মতো পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রান্নার জন্য ইলেকট্রিক সামগ্রিক কিনতে হচ্ছে।









